০৫-০২-২০২১ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.)-এর জুমুআর খুতবা

بسم اللہ الرحمن الرحیم

যুক্তরাজ্যের (টিলফোর্ড, সারেস্থ) ইসলামাবাদের মুবারক মসজিদে প্রদত্ত সৈয়্যদনা আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.)-এর ০৫-০২-২০২১ মোতাবেক ০৫ তবলীগ, ১৪০০ হিজরী শামসী’র জুমুআর খুতবা

তাশাহ্হুদ, তা’ঊয এবং সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর আনোয়ার (আই.) বলেন:
হযরত উসমান (রা.)-এর স্মৃতিচারণ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর যুদ্ধে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় একটি যুদ্ধাভিযান ছিল ‘গাযওয়া যাতুর রিকা’। মহানবী (সা.) নাজাদে গাতফান গোত্রের শাখা বনু সালেবা ও বনু মুহারেবের ওপর আক্রমণের জন্য ৪শ’ মতান্তরে ৭শ’ সাহাবীকে সাথে নিয়ে যাত্রা করেন এবং হযরত উসমান (রা.)-কে মদিনায় আমীর নিযুক্ত করেন। অন্য রেওয়ায়েত অনুসারে হযরত আবুযার গিফারী (রা.)-কে আমীর নিযুক্ত করেন। মহানবী (সা.) যখন নাজাদের ‘নাখাল’ নামক স্থানে পৌঁছেন, যাকে ‘যাতুর রিকা’ বলা হয়, তাঁর (সা.) মুকাবিলার জন্য সেখানে বড় শত্রুবাহিনী প্রস্তুত ছিল। উভয় দল পরস্পরের মুখোমুখি হলেও কোন যুদ্ধ হয় নি; উভয় পক্ষ বিরোধী পক্ষের কারণে শঙ্কিত ছিল। এ অভিযানকালেই মুসলমানরা প্রথমবার ‘সালাতে খওফ’ অর্থাৎ ভয়ভীতির নামায পড়ে। এই যুদ্ধের নামকরণ সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে যে, এ যুদ্ধে সাহাবা (রা.) তাদের পতাকায় তালি লাগিয়ে রেখেছিলেন একারণে এটিকে ‘যাতুর রেকা’ বলা হয় । এ-ও বলা হয়, অত্র অঞ্চলে এক গাছ বা পাহাড় ছিল যার নাম ‘যাতুর রিকা’ ছিল। বুখারী শরীফের একটি রেওয়াতে এভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত আবু মূসা আশারী (রা.) বর্ণনা করেন, এক অভিযানে আমরা নবী করীম (সা.)-এর সাথে বের হই আর আমরা ছিলাম ৬ জন। আমাদের একটি এজমালি উট ছিল, যাতে আমরা পালাক্রমে আরোহণ করতাম। আমাদের পা ফেঁটে যায়। অর্থাৎ পুরো যুদ্ধে ৬ জন ছিল না বরং সেই উট ছিল ছয় জনের জন্য। আমার উভয় পা ফেঁটে যায় এবং আমার পায়ের নখ ঝরে যায়। এ অবস্থায় আমরা আমাদের পায়ে কাপড়ের টুকরো পেঁচিয়ে নেই। এজন্য এ যুদ্ধের নাম ‘গাযওয়া যাতুর রিকা’ অর্থাৎ টুকরো কাপড়ের যুদ্ধ রাখা হয়েছে। কেননা আমরা আমাদের পায়ে কাপড়ের টুকরো বেঁধে রেখে ছিলাম।
একটি নোট রয়েছে, তা-ও বলে দিচ্ছি, রিসার্চ সেল এটি যুক্তি করছে। ইতিহাস ও সীরাতের গ্রন্থের (বিবরণ) অনুসারে ‘গাযওয়া যাতুর রিকা’ চতুর্থ হিজরী সনে হয়েছিল। অথচ ইমাম বুখারী এই যুদ্ধকে খায়বারের পরের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা হযরত আবু মূসা আশ’আরী (রা.) এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন আর তিনি খায়বারের যুদ্ধের পর মুসলমান হয়েছিলেন। এজন্য সপ্তম হিজরী সনের তারিখটি অধিক সঠিক বলে অনুমেয়।
অষ্টম হিজরী সনে লদ্ধ মক্কা বিজয় সেসম্পর্কে যেসব রেওয়ায়েত রয়েছে সেগুলোর একটি বিস্তারিত রেওয়ায়েত সুনান নাসাঈ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যাতে মক্কা বিজয়ের সময়কার সেসব ব্যক্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে- যাদের বিরুদ্ধে নবী করীম (সা.)-এর পক্ষ থেকে মৃত্যুদ-াদেশ জারি করা হয়েছিল। হযরত মুসআব বিন সা’দ তাঁর পিতার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ্ (সা.) ৪ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী ছাড়া বাকি সকল কাফেরকে নিরাপত্তা প্রদান করেছিলেন। মহানবী (সা.) বলেন, কা’বার পর্দা আঁকড়ে ধরা অবস্থায় পেলেও তোমরা ৪ ব্যক্তিতে হত্যা করবে আর তারা ছিলÑ ইকরামা বিন আবু জাহল, আব্দুল্লাহ্ বিন খাতাল, মুকিস বিন সুবাবা এবং আব্দুল্লাহ্ বিন সা’দ বিন আবি সারাহ্। আব্দুল্লাহ্ বিন খাতাল গ্রেফতার হওয়ার সময় কাবা গৃহের কাপড় ধরে রেখেছিল। হযরত সাঈদ বিন হুনায়েস এবং হযরত আম্মার বিন ইয়াসের (রা.) দুজনই তার ওপর ঝাপিয়ে পড়েন আর হযরত সাঈদ (রা.) এগিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করেন। মুকিসকে জনতা বাজারে দেখতে পায় আর তাকে হত্যা করে। ইকরামা সমুদ্র অভিমুখে পালিয়ে যায় আর জাহাজের যাত্রীরা সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে। তখন জাহাজের নাবিকরা বলে, তোমরা নিষ্ঠা ও সততা অবলম্বন কর, কেননা এখানে তোমাদের উপাস্য তোমাদের কোন কাজে আসবে না। একথা শুনে ইকরামা বলে, আল্লাহর কসম! এই সমুদ্রে কোন কিছু যদি আমাকে রক্ষা করতে পারে তবে তা হলো নিষ্ঠা ও সততা আর স্থলেও এই নিষ্ঠা ও সততাই আমাকে রক্ষা করবে। হে আল্লাহ্! আমি তোমার সাথে দৃঢ় অঙ্গীকার করছি, তুমি যদি আমাকে এই সামুদ্রিক ঝড় থেকে রক্ষা কর তাহলে আমি অবশ্যই মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে গিয়ে তাঁর হাতে আমার হাত রাখব আর নিশ্চয় আমি তাঁকে (সা.) মার্জনাকারী এবং দয়াদ্র পাব। এরপর সে ফিরে আসে এবং ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। এ সম্পর্কে অধিক প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েত এটিই যে, জাহাজে আরোহনের পূর্বেই তার স্ত্রী তাকে মানাতে সক্ষম হয় এবং ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই রেওয়ায়েত পরবর্তীতে আসবে। যাহোক এটি সুনান নাসাঈ-এর একটি বর্ণনা। আব্দুল্লাহ্ বিন আবি সারাহ হযরত উসমান বিন আফ্ফান (রা.)-এর ঘরে আত্মগোপন করে। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সা.) লোকদেরকে যখন বয়আতের জন্য আহ্বান জানান তখন হযরত উসমান (রা.) তাকে নবী করীম (সা.)-এর সম্মুখে এনে নিবেদন করেন, হে রসূলুল্লাহ (সা.)! আব্দুল্লাহ্র বয়আত গ্রহণ করুন। মহানবী (সা.) ৩বার তার দিকে মুখ তুলে তাকান এবং ৩বারই (তার বয়আত গ্রহণে) অস্বীকৃতি জানান। যাহোক অবশেষে তিনি (সা.) তার বয়আত গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে তিনি (সা.) এটিও বলেন, যার বয়আত গ্রহণে আমি অস্বীকার করেছিলাম, তাকে হত্যার করার জন্য কি বুদ্ধিমান কেউ ছিল না? একথা শুনে তারা (অর্থাৎ সাহাবীরা) নিবেদন করেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সা.)! আপনার হৃদয়ে কী ছিল তা আমরা কিভাবে বুঝবো? আপনি আমাদেরকে চোখে ইশারা করেন নি কেন? জবাবে তিনি (সা.) বলেন, চোখের খেয়ানত করা নবীর জন্য বৈধ নয়। এই রেওয়ায়েত সুনান আবুদ দাউদেও রয়েছে। অবশ্য সুনান আবু দাউদে আরেকটি রেওয়ায়েতও রয়েছে। কিন্তু এই রেওয়ায়েতে শেষোক্ত বাক্যগুলো অর্থাৎ তাকে হত্যা সম্পর্কিত বিষয়ের উল্লেখ নেই। যেমন এই রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ বিন সা’দ বিন আবি সারহ্ রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর কাতেব বা (ওহী) লেখক ছিল। শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করেছে আর সে গিয়ে কাফেরদের সাথে যোগ দেয়। মক্কা বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সা.) তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। হযরত উসমান বিন আফ্ফান (রা.) তার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এতে রসূলুল্লাহ (সা.) তাকে আশ্রয় দান করেন। তাকে হত্যা করা উচিত ছিল, কেন হত্যা করো নি?Ñ মহানবী (সা.)-এর এই উক্তি সম্পর্কে এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় যে সাহাবীদের উদ্দেশ্যে মহানবী (সা.)-এর উক্তি, ‘আমি যখন বয়আত গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছিলাম তখন তোমরা তাকে হত্যা কর নি কেন’?- এটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। কেননা নবী করীম (সা.) যদি তার বয়আত গ্রহণ করতে না চাইতেন এবং তাকে হত্যার সিদ্ধান্তে অটল থাকাই পছন্দ করতেন, তাহলে তাকে হত্যার রায় প্রদান করতে পারতেন। মহানবী (সা.) বিজয়ী সেনাপতি ছিলেন, রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, তার মৃত্যুদ-াদেশও সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত। তাই সম্ভবত এই রেওয়ায়েতে কোন বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত মতামত অনুপ্রবেশ করেছে। এছাড়া বুখারী এবং মুসলিম শরীফেও এই রেওয়ায়েতটি নেই আর এ বিষয়েই একটি বর্ণনা আবু দাউদে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) রেওয়ায়েত করেছেন, যার উল্লেখ ইতোমধ্যে করা হয়েছে কিন্তু তাতে হত্যার কোন উল্লেখ নেই। হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা) সূরা মু’মিনুনের ১৫ নম্বর আয়াতের তফসীর করতে গিয়ে এই ঘটনার বিবরণ এভাবে উল্লেখ করেন,
এই আয়াতের সাথে একটি ঐতিহাসিক ঘটনাও সম্পৃক্ত রয়েছে। সেটিও এখানে বর্ণনা করা আবশ্যক মনে করছি। মহানবী (সা.)-এর একজন কাতেবে ওহী অর্থাৎ ওহীর লিপিকার ছিলেন যার নাম ছিল আব্দুল্লাহ বিন আবি সারাহ্। মহানবী (সা.)-এর কাছে কোন ওহী হলে তাকে ডেকে তা লিখিয়ে নিতেন। একদিন তিনি (সা.) তাকে দিয়ে এই আয়াতগুলোই লেখাচ্ছিলেন। যখন তিনি (সা.) “সুম্মা আনশা’নাহু খালকান আখার”- আয়াতে পৌঁছেন তখন তার মুখ থেকে অবলীলায় “ফাতাবারাকাল্লাহু আহসানাল খালেকিন”- আয়াতটি বের হয়ে যায়। তখন মহানবী (সা.) বলেনÑ এটিই ওহী; লিখে নাও। এই হতভাগা ভাবে নি যে, পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী আয়াত এটি হওয়া, একটি স্বাভাবিক বিষয়। সে ধরে নেয় যে আমার মুখ থেকে যেভাবে এই আয়াতটি নিসৃত হয়েছে আর মহানবী (সা.)ও একে ওহী বলে আখ্যায়িত করেছেন সেভাবে মহানবী (সা.)ও নাউযুবিল্লাহ্ নিজে থেকেই সমস্ত কুরআন রচনা করছেন। অতএব সে মুরতাদ (বা ধর্মচ্যুত) হয়ে মক্কায় চলে যায়। মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সা.) যাদেরকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন আব্দুল্লাহ্ বিন আবি সারাহ্ও ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু হযরত উসমান (রা.) তাকে আশ্রয় দেন আর সে তাঁর (রা.)-এর বাড়িতে ৩ দিন পর্যন্ত আত্মগোপন করে থাকে। একদিন মহানবী (সা.) যখন মক্কাবাসীর বয়আত নিচ্ছিলেন, তখন হযরত উসমান (রা.) আব্দুল্লাহ্ বিন সারাহ্কে তাঁর সমীপে নিয়ে যান এবং তার বয়আত গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। মহানবী (সা.) প্রথমে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করেন কিন্তু এরপর তার বয়আত নিয়ে নেন। এভাবে পুনরায় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
সুনান নাসাঈÑতে বর্ণিত রেওয়ায়েতে ইকরামা বিন আবু জাহলের ইসলাম গ্রহণের যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, সীরাতের বিভিন্ন গ্রন্থে তা এভাবে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমি পূর্বেও বলেছিলাম যা একটু ভিন্ন ছিল। অর্থাৎ ইকরামা বিন আবু জাহাল ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম- যাদেরকে মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) মৃত্যুদ- প্রদান করেন। ইকরামা এবং তার পিতা মহানবী (স.)-কে কষ্ট দিত এবং সে মুসলমানদের প্রতি সীমাহীন কঠোরতা প্রদর্শন করতো। সে যখন জানতে পারে যে রসূলুল্লাহ্ (সা.) তাকে হত্যার রায় দিয়েছেন তখন সে ইয়েমেনের দিকে পালিয়ে যায়। তার স্ত্রী ইসলাম গ্রহণের পর স্বামীর সন্ধানে বের হন। তিনি ইকরামাকে সমুদ্র সৈকতে খুজে পান যখন সে জাহাজে আরোহণ করতে চাচ্ছিল। একটি উক্তি অনুযায়ীÑ তিনি ইকরামাকে তখন পান যখন সে ইতোমধ্যে নৌকায় বসে গিয়েছিল। তিনি ইকরামাকে একথা বলে থামান যে, হে আমার চাচার ছেলে! আমি তোমার কাছে সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে এসেছি যিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্পর্কবন্ধন স্থাপনকারী এবং সবচেয়ে পূণ্যবান এবং সর্বাধিক হিতাকাঙ্খী। তুমি তোমার প্রাণকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না। কেননা আমি তোমার জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছি। একথা শুনে সে তার স্ত্রীর সাথে ফিরে আসে এবং ইসলাম গ্রহণ করে আর তার ইসলাম ছিল অনেক আকর্ষণীয়।
একটি রেওয়ায়েতে রয়েছে, রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর সকাশে উপস্থিত হয়ে ইকরামা নিবেদন করে, হে মুহাম্মদ! আমার স্ত্রী আমাকে বলেছে আপনি আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। তিনি (সা.) বলেন, তুমি সত্য বলেছ, নিশ্চয় তুমি নিরাপদ। একথা শুনে ইকরামা বলেÑ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ভিন্ন কোন উপাস্য নেই। তিনি এক-অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আপনি তাঁর বান্দা ও রসূল। তিনি লজ্জায় তার মাথা নীচু করে রাখেন। তখন রসূলুল্লাহ্ (সা.) তাকে বলেন, হে ইকরামা! তুমি আমার কাছে যা-ই চাইবে তা যদি দেয়ার মত সামর্থ্য আমার থাকে তবে অবশ্যই আমি তোমাকে তা দিব। ইকরামা (রা.) নিবেদন করেন, আমার পক্ষ হতে আপনার প্রতি প্রদর্শিত প্রতিটি শত্রুতার ক্ষমা লাভের জন্য দোয়া করুন। একথা শুনে মহানবী (সা.) দোয়া করেনÑ হে আল্লাহ্! ইকরামার সেসব শত্রুতা তুমি ক্ষমা করে দাও যা সে আমার সাথে করেছে। বা তার কৃত সকল মন্দ কৃতকর্ম ক্ষমা করে দাও। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সা.) আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেন এবং নিজের চাদরে তাকে আবৃত করেন এবং, সেই ব্যক্তিকে স্বাগতম যে আমাদের নিকট ঈমান আনয়নকারী এবং হিজরতকারী অবস্থায় এসেছে। পরবর্তীতে ইকরামা সুমহান সাহাবীদের মাঝে গণ্য হতেন। ইকরামার ঈমান আনার ফলে সেই ভবিষ্যদ্বাণীও পূর্ণ হয় যা মহানবী (স.) স্বীয় সাহাবীদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন যে, মহানবী (সা.) স্বপ্নে দেখেছেন, তিনি (সা.) জান্নাতে আছেন আর সেখানে তিনি (সা.) আঙুরের একটি থোকা দেখতে পান যা তাঁর খুব পছন্দ হয়। তিনি (সা.) জিজ্ঞেস করেন, এটি কার জন্য? তখন তাঁকে বলা হয় আবু জাহলের জন্য। একথাটি তার কাছে খুবই কষ্টকর মনে হয়। তাঁর কাছে ভালো লাগে নি আর তিনি চিন্তিত হন এবং বলেন, জান্নাতে তো মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারে না, তাহলে এটি আবু জাহলের জন্য কীভাবে হতে পারে? এরপর ইকরামা বিন আবু জাহল যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তিনি এতে খুব আনন্দিত হন এবং এই (আঙুরের) থোকার এ ব্যাখ্যাই করেনÑ এর অর্থ ছিল ইকরামা।
তবুকের যুদ্ধ নবম হিজরীর রজব মাসে সংঘটিত হয়েছিল। সেই তবুকের যুদ্ধের অপর নাম হলো জায়শুল উসরা অর্থাৎ কষ্টকর যুদ্ধও বলা হয়। এ যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য হযরত উসমান (রা.) যে পরিমাণ আর্থিক সেবা করার সৌভাগ্য হয় তার উল্লেখ এভাবে দেখা যায়। এই যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য মহানবী (সা.) আহ্বান জানালে হযরত উসমান সিরিয়ায় বানিজ্যের উদ্দেশ্যে প্রেরণের জন্য প্রস্তুতকৃত নিজের শত উটের কাফেলা হাওদা এবং পালানসহ দিয়ে দেন। মহানবী (সা.) পুনরায় আহ্বান করলে এই যুদ্ধের প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে হযরত উসমান আরো একশত উট হাওদা এবং গদিসহ প্রস্তুত করে উপস্থাপন করেন। তিনি (সা.) পুনরায় তাহরীক করলে হযরত উসমান তৃতীয়বার আরো একশত উট হাওদা এবং গদিসহ প্রস্তুত করে তাঁর (সা.) সমীপে উপস্থাপন করেন। মহানবী (সা.) মিম্বর থেকে অবতরণের পর বলেন, ‘মা আলা উসমানা মা আমেলা বা’দা হাযিহী’ ‘মা আলা উসমানা মা আমেলা বা’দা হাযিহী’। অর্থাৎ এরপর উসমান যা-ই করুকÑ তার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। এরপর উসমান যা-ই করুকÑ তার জন্য তার কোন জিজ্ঞাসাবাদ হবে না। এছাড়াও হযরত উসমান দুইশত উকিয়া (পরিমাণ) স্বর্ণও মহানবী (সা.)-এর সমীপে উপস্থাপন করেন।
অপর এক রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত উসমান এসে এক সহ¯্র দিনার মহানবী (সা.)-এর ঝুলিতে রেখে দেন। মহানবী (সা.) ঝুলিতে রাখা দিনারগুলো উল্টিয়েপাল্টিয়ে দেখেন এবং দুইবার বলেন, ‘মা র্যারা উসমানা মা আমেলা বা’দাল ইয়াওম’। অর্থাৎ আজকের পর উসমান যা-ই করুক, তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না। একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী হযরত উসমান তখন দশ হাজার দিনার দান করেন তখন মহানবী (সা.) হযরত উসমানের জন্য এই দোয়া করেন যে, ‘গাফারাল্লাহু লাকা ইয়া উসমানু! মা আসরারতা, ওয়া মা আ’লানতা, ওয়া মা হুয়া কাহেনুন ইলা ইয়াওমিল ক্বিয়ামা। মা ইয়ুবালি মা আমেলা বা’দাহা’। অর্থাৎ, হে উসমান! আল্লাহ্ তা’লা তোমার সাথে ক্ষমার আচরণ করুন (তার জন্য) যা তুমি গোপনে করেছ আর যা তুমি প্রকাশ্যে করেছ এবং যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত (তোমার দ্বারা) হবে। এরপর সে যাই করুক, তার জন্য কোন দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী তিনি (রা.) এই যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য এক হাজার উট এবং সত্তরটি ঘোড়া প্রদান করেন। একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী মহানবী (সা.) এই উপলক্ষ্যে হযরত উসমানকে বলেন, হে উসমান! আল্লাহ্ তা’লা তোমার সেই সমস্ত কাজ ক্ষমা করুন- যা তুমি গোপনে করেছ এবং যা তুমি প্রকাশ্যে করেছ আর যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত (তোমার দ্বারা) হবে। এই আমলের পর সে যা-ই করুক, আল্লাহ্ তা’লা তা মার্জনা করবেন। একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী মহানবী (সা.) এই উপলক্ষ্যে হযরত উসমানের স্বপক্ষে এই দোয়া করেন যে,
‘আল্লাহুম্মারযে আন উসমানা ফাইন্নি আনহু রাযীন’। অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! তুমি উসমানের প্রতি সন্তুষ্ট হও, কেননা আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট।
হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বর্ণনা করেন যে, সাহাবীরা কোন কোন সময় নিজেদের ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে যুদ্ধের ব্যায়ভার নির্বাহ করেছেন। বরং এটিও দেখা যায় যে, কোন কোন সময় তারা নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করে অন্যদের জন্য খরচ করতেন এবং তাদের সমস্ত প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন। যেমন একবার মহানবী (সা.) বাহিরে আসেন এবং বলেন যে, আমাদের বাহিনী অমুক অভিযানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে যাচ্ছে, কিন্তু মু’মিনদের কাছে (খরচের) কিছুই নেই। তোমাদের মাঝে কেউ কি আছে যে পুণ্য অর্জন করবে? হযরত উসমান (রা.) এ কথা শুনতেই উঠেন এবং নিজের জমানো অর্থ বের করে তা মুসলমানদের ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য মহানবী (সা.)-এর সমীপে উপস্থাপন করেন। মহানবী (সা.) এটি দেখে বলেন, উসমান জান্নাত ক্রয় করে নিয়েছে। অনুরূপভাবে একবার একটি কূপ বিক্রি হচ্ছিল। মুসলমানদের যেহেতু সেই দিনগুলোতে পানির খুব কষ্ট ছিল তাই তিনি (সা.) এই উপলক্ষ্যে বলেন, কেউ আছে কি, যে পুণ্য অর্জন করবে? হযরত উসমান (রা.) নিবেদন করেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সা.)! আমি উপস্থিত। অতএব তিনি সেই কূপ ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য উৎসর্গ করে দেন। মহানবী (সা.) পুনরায় বলেন, উসমান জান্নাত ক্রয় করে নিয়েছে। একইভাবে অপর এক উপলক্ষ্যেও মহানবী (সা.) হযরত উসমান (রা.) সম্পর্কে একই বাক্য উচ্চারণ করেন। অর্থাৎ তিনবার এমন হয়েছে যখন মহানবী (সা.) হযরত উসমান (রা.) সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি জান্নাত ক্রয় করেছেন। হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বারংবার হযরত উসমান (রা.) সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি জান্নাত ক্রয় করে নিয়েছেন এবং তিনি জান্নাতী। এছাড়া একবার হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মহানবী (সা.) যখন মুসলমানদের কাছ থেকে পুনরায় বয়আত গ্রহণ করেন আর হযরত উসমান (রা.) সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি (সা.) নিজের এক হাত অপর হাতের ওপর রেখে বলেন, এটি উসমানের হাত। আমি তার পক্ষ থেকে নিজের এক হাত অপর হাতের ওপর রাখছি। এভাবে তিনি (সা.) নিজের হাতকে হযরত উসমান (রা.)-এর হাত আখ্যা দিয়েছেন। আরেকবার তিনি (সা.) বলেন, হে উসমান! খোদা তা’লা তোমাকে একটি জামা পরাবেন। মুনাফিকরা তোমার সেই পোশাক খুলে নিতে চাইবে, কিন্তু তুমি তা খুলবে না। হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, এখানে মহানবী (সা.) হযরত উসমান (রা.)-কে বলেন, তুমি সেই পোশাক খুলবে না আর যারাই তোমার নিকট এই জামা খুলে ফেলার দাবি উত্থাপন করবে তারা হবে মুনাফিক। এ থেকে এটিও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা ছিল মুনাফিক, কেননা মহানবী (সা.) পূর্বেই এর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
হযরত উসমান (রা.)-এর ত্যাগ তিতিক্ষার কথা হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সালেস (রাহে.) এক স্থানে এভাবে উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রয়োজন ছিল আর মহানবী (সা.) সাহাবীদের (রা.) সামনে যা যা প্রয়োজন ছিল তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আর্থিক কুরবানীর আহ্বান জানান। এর ফলে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) নিজের সমস্ত ধনসম্পদ নিয়ে আসেন আর হযরত উমর (রা.) নিজের অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসেন। হযরত উসমান (রা.) নিবেদন করেন, আমি ১০ হাজার সাহাবীর সম্পূর্ণ খরচ বহন করবÑ আমার এই আবেদন গ্রহণ করা হোক। এছাড়াও তিনি সহ¯্র উট এবং সত্তরটি ঘোড়া প্রদান করেন।
হযরত আবুবকর (রা.)-এর খিলাফতকালে হযরত উসমান (রা.)-এর ভূমিকা কী ছিল এবং তার সম্মান বা পদমর্যাদা কীরূপ ছিল? বা হযরত আবু বকর (রা.) তাকে কতটা সম্মান করতেন এবং কীভাবে মূল্যায়ন করতেন? হযরত আবু বকর (রা.) এর খিলাফতকালে হযরত উসমান (রা.) সেসব সাহাবী এবং পরামর্শদাতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করা হতো। হযরত আবু বকর (রা.) মুরতাদদের ফিতনার মোকাবিলা করে তা দূরীভূত করার পর রোম অভিযান এবং বিভিন্ন দিকে সেনা অভিযান প্রেরণের ইচ্ছা করেন আর এই বিষয়ে মানুষের কাছে পরামর্শ চান। কতিপয় সাহাবী পরামর্শ দিলেন কিন্তু হযরত আবু বকর (রা.) আরও পরমার্শের আহ্বান করেন। তখন হযরত উসমান (রা.) বলেন, আপনি এই ধর্মের অনুসারীদের শুভাকাক্সক্ষী এবং তত্তাবধায়ক। অতএব আপনি মানুষের জন্য যে সিদ্ধান্ত কল্যাণকর মনে করেন তা বাস্তবায়নের দৃঢ় সংকল্প করে নিন। কেননা আপনার বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। অর্থাৎ তিনি আবু বকর (রা.)-কে বলেন যে, আপনার সম্পর্কে কোন কুধারণা করা যেতে পারে না। এই কথা শুনে হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের, হযরত সা’দ, হযরত আবু উবায়দা, হযরত সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) সহ সেই সভায় উপস্থিত সকল মুহাজের ও আনসারগণ বলেন, হযরত উসমান যথার্থ বলেছেন। আপনি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করুন। আমরা আপনার বিরোধিতাও করব না আর আপনাকে দোষারোপও করব না। এরপর হযরত আলী (রা.) কথা বলেন। অতঃপর হযরত আবু বকর (রা.) মানুষের মাঝে দ-ায়মান হন এবং আল্লাহ্ তা’লার যথাযোগ্য যিকর করেন এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন। এরপর তিনি বলেন, হে লোক সকল! আল্লাহ্ তা’লা ইসলামের মাধ্যমে তোমাদের কৃপাম-িত করেছেন আর জিহাদের দ্বারা তোমাদেরকে সম্মানিত করেছেন এবং এ ধর্মের মাধ্যমে তোমাদেরকে সকল ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। সুতরাং হে আল্লাহ্র বান্দাগণ! সিরিয়ায় রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর। হযরত আওয়ান বিন সাঈদ (রা.)-এর পর কাকে বাহরাইনের গভর্ণর করে পাঠানো যায়, এ বিষয়ে যখন হযরত আবু বকর (রা.) নিজ সঙ্গীদের সাথে পরামর্শ করেন তখন হযরত উসমান বিন আফফান (রা.) নিবেদন করেন যে, সেই ব্যক্তিকে প্রেরণ করুন যাকে আল্লাহ্র রসূল (সা.) বাহরাইনবাসীদের জন্য গভর্ণর নিযুক্ত করেছিলেন। আর তিনি তাদের জন্য ইসলাম গ্রহণ ও আনুগত্য করার কারণ হয়েছিলেন এবং তিনি তাদের ও তাদের অঞ্চল সম্পর্কেও ভালোভাবে পরিচিত। তিনি হলেন আলা বিন হাযরামী। একথা শুনে হযরত আবু বকর (রা.) আলা বিন হাযরমীকে বাহরাইনে প্রেরণ করতে সম্মত হন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, হযরত আবু বকর (রা.) এর খিলাফতকালে একবার বৃষ্টি হয়নি। মানুষ হযরত আবু বকর (রা.) এর সমীপে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করে যে, আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করছে না আর ভূমিও ফসল উৎপন্ন করছে না; মানুষ চরম সমস্যায় জর্জরিত; তখন হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, তোমরা যাও এবং ধৈর্য ধারণ কর। আল্লাহ্ তা’লা সন্ধ্যার মধ্যে তোমাদের দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন। এরই মাঝে হযরত উসমান (রা.)-এর শত উটের বাণিজ্যিক কাফেলা গম বা খাদ্য শস্যবোঝাই হয়ে সিরিয়া থেকে মদিনায় পৌঁছে। এ সংবাদ পেয়ে মানুষ হযরত উসমান (রা.)-এর বাড়িতে যায় এবং দরজায় কড়া নাড়ে। হযরত উসমান (রা.) মানুষের সামনে আসেন এবং জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কী চান? লোকজন বলে, আপনি জানেন যে, দুর্ভিক্ষের যুগ। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করছে না এবং ভূমিও ফসল উৎপন্ন করছে না। মানুষ চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আছে। আমরা জানতে পেরেছি যে, আপনার কাছে খাদ্যশস্য আছে। আপনি তা আমাদের কাছে বিক্রি করে দিন যেন আমরা তা দরিদ্র-মিসকীনদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। হযরত উসমান (রা.) বলেন, বেশ ভালো কথা; ভিতরে এসে কিনে নিন। ব্যবসায়ীরা তাঁর (রা.) ঘরে প্রবেশ করে এবং খাদ্যশস্য হযরত উসমানের ঘরে পড়ে থাকতে দেখে। হযরত উসমান (রা.) ব্যবসায়ীদের বলেন, সিরিয়া থেকে আমি যে খাদ্যশস্য ক্রয় করে এখানে নিয়ে এসেছি, আপনারা বলুন, আমাকে লাভ কতটা দিবেন। সেখানে যারা উপস্থিত ছিল, তাদের কেউ কেউ মানুষের মাঝে বন্টনের জন্য ক্রয় করতে আসে আর কেউ কেউ ছিল ব্যবসায়ী। তারা বলে, আমরা দশ দিরহামের বদলে বারো দিরহাম দিব। অর্থাৎ যদি এর ক্রয়মূল্য দশ দিরহাম হয় তাহলে আমরা বারো দিরহাম দিচ্ছি। হযরত উসমান (রা.) বলেন, আমি এর চেয়ে বেশি পাচ্ছি। তখন তারা বলে, তাহলে আমরা দশ দিরহামের জন্য পনেরো দিরহাম দিব। অর্থাৎ দশ দিরহামের পরিবর্তে আমরা পনেরো দিরহাম দিতে প্রস্তুত আছি। হযরত উসমান (রা.) বলেন, আমি এর চেয়েও অধিক পাচ্ছি। ব্যবসায়ীরা বলে, হে আবু আমর! মদিনায় আমরা ছাড়া আর ব্যবসায়ী নেই; তাহলে আপনাকে এর চেয়ে বেশি লাভ কে দিচ্ছে? হযরত উসমান (রা.) বলেন, আল্লাহ্ তা’লা আমাকে এক দিরহামের বিনিময়ে দশ দিরহাম দিচ্ছেন, অর্থাৎ প্রতি দিরহামের বিনিময়ে দশগুণ দান করছেন। আপনারা কি এর চেয়ে বেশি দিতে পারবেন? তারা বলে, আমরা এর বেশি দিতে পারব না। এতে হযরত উসমান (রা.) বলেন, আমি আল্লাহ্ তা’লাকে সাক্ষী রেখে এই খাদ্যশস্য দরিদ্র মুসলমানদের জন্য সদকা করছি, অর্থাৎ এই খাদ্যশস্যের পুরোটা আমি দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে দান করছি এবং এর বিনিময়ে আমি কোন (জাগতিক) মূল্য গ্রহণ করব না। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি সেই রাতে, অর্থাৎ যেদিন এই ঘটনা ঘটে এবং খাদ্যশস্য বণ্টন করা হয় বা সদকা করা হয়, সেই রাতে আমি আমি মহানবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখি। তিনি (সা.) বিশাল দেহ বিশিষ্ট একটি অনারব ঘোড়ায় আরোহন করে আছেন। তাঁর (সা.) ওপর নূরের পোশাক রয়েছে এবং তাঁর পায়ে নূরের জুতা রয়েছে আর হাতে রয়েছে নূরের ছড়ি। আর তিনি (সা.) বেশ ত্বরায় রয়েছেন। আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জন্য এবং আপনার সাথে কথা বলার জন্য যে আমার অধীর আগ্রহ!, আপনি তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন? তিনি (সা.) বললেন, হে ইবনে আব্বাস! উসমান একটি সাদকা করেছে আর আল্লাহ্ তা’লা তা কবুল করেছেন এবং জান্নাতে তাকে বিবাহ করিয়েছেন আর আমাদেরকে তার বিবাহে অংশগ্রহণের জন্য নিমন্ত্রন করা হয়েছে।
হযরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে হযরত উসমান (রা.)-এর ভূমিকা ও মান-মর্যাদার বিষয়ে কয়েকটি কথা উল্লেখ করব। হযরত উমর ( রা.) যখন খলীফা নির্বাচিত হন তখন তিনি জ্যেষ্ঠ সাহাবীদের কাছে বায়তুল মাল থেকে নিজের ভাতা সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। তখন হযরত উসমান (রা.) নিবেদন করেন, খান এবং খাওয়ান অর্থাৎ নিজের চাহিদা পূরণ করুন এবং জনগনের প্রয়োজনও পূর্ণ করুন। নির্দিষ্ট ভাতা নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। ইসলামী বিজয়ের ধারা যখন বিস্তৃত হয় এবং সম্পদ বৃদ্ধি পায়, তখন হযরত উমর (রা.) সাহাবীদের কতককে উক্ত সম্পদের বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য একত্রিত করলেন। হযরত উসমান (রা.) নিবেদন করেন, আমি দেখছি, সম্পদ অনেক বেড়ে গেছে যা জনগনের জন্য পর্যাপ্ত। যদি জনগনের পরিসংখ্যান একত্রিত করা না হয় যে, কে পেল আর কে পেল নাÑ তাহলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে আমার আশংকা রয়েছে! কেননা কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষ হয়তো দু’দুবার নিয়ে যাবে। সুসংহত ব্যবস্থা থাকা দরকার, রেজিষ্টার বানানো অবশ্যক। তখন হযরত উমর (রা.) হযরত উসমান (রা.)-এর মতামত মেনে নেন আর আদমশুমারীর মাধ্যমে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে জনগনের নাম রেজিষ্টারে সংরক্ষিত করার কার্যক্রম শুরু হয় আর উক্ত হিসাব মোতাবেক সকলে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য লাভ করতে থাকে। হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফত সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীও আছে। ইতিপূর্বে তার (রা.) জামা পরিধান এবং মুনাফেকদের জামা ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি ইঙ্গিতে আলোচনা করা হয়েছিল। হযরত আবু বকর (রা.) বর্ণিত হাদীস, মহানবী (সা.) একদিন বলেন, তোমাদের মাঝে কেউ কি কোন স্বপ্ন দেখেছে? এক ব্যক্তি বলেন, জ¦ী! আমি দেখেছি (আর তা হলো,) যেন একটি দাড়িপাল্লা ঊর্ধ্বলোক থেকে নেমে আসলো এবং এর তাতে হুযূর (সা.) এবং হযরত আবু বকরের ওজন করা হলো। তখন হুযূর (সা.) হযরত আবু বকরের চেয়ে ভারি দেখা গেল। অতঃপর হযরত উমর (রা.) এবং হযরত আবু বকর (রা.)কে পরিমাপ করা হল এবং হযরত আবু বকর (রা.) তুলনামূলক অধিক ভারি প্রমাণিত হলেন। এরপর হযরত উমর (রা.) এবং হযরত উসমান (রা.)কে পরিমাপ করা হল, সেক্ষেত্রে হযরত উমর (রা.) অধিক ভারি দেখা গেল। এরপর দাড়িপাল্লাটি তুলে নেয়া হল। স্বপ্নের বর্ণনার পর মহানবী (সা.)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছিল। তিনি (সা.) সেই স্বপ্ন শুনে পুলকিত হন নি বরং খুবই মর্মাহত হন। অপর এক রেওয়ায়েতে হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেন, আজ রাতে এক পুণ্যবান ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে যে, হযরত আবু বকর (রা.)কে মহানবী (সা.)-এর সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে আর হযরত উমর (রা.)কে হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাথে আর হযরত উসমান (রা.)কে হযরত উমর (রা.)-এর সাথে (সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে)। হযরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, আমরা যখন মহানবী (সা.)-এর পাশ থেকে উঠে এলাম, তখন বললাম, সালেহ বা পুণ্যবান ব্যক্তি বলতে মহানবী (সা.)কেই বুঝানো হয়েছে আর একে অপরের সাথে সংযুক্ত হওয়া বলতে বুঝায়, এঁরাই সেই ধর্মের তত্ত্বাবধায়ক হবেন, যে ধর্মসহ মহানবী (সা.)কে আল্লাহ্ তা’লা প্রেরণ করেছেন।
হযরত সামুরা বিন জুনদুব বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি (স্বপ্নে) দেখলাম, যেন আকাশ থেকে একটি বালতি ঝুলানো হয়েছে। প্রথমে হযরত আবু বকর (রা.) আসলেন এবং বালতির উভয় কাষ্ঠহাতল ধরে সেখান থেকে কিছুটা পান করলেন। অতঃপর হযরত উমর (রা.) আসলেন এবং বালতির উভয় কাষ্ঠহাতল ধরে পূর্ণতৃপ্তির সাথে পান করলেন। এরপর হযরত উসমান (রা.) আসলেন আর বালতির উভয় কাষ্ঠহাতল ধরে তিনিও তৃপ্তির সাথে পান করলেন। এরপর হযরত আলী (রা.) আসলেন আর বালতির উভয় কাষ্ঠহাতল ধরলেন কিন্তু তা উপচে পড়ল আর তা থেকে কিছুটা তাঁর (রা.) শরীরের ওপরও পড়ল। এই ঘটনাটিও খিলাফত এর ধারাবাহিকতার প্রতি একটি ইঙ্গিত ছিল এবং হযরত আলী (রা.) যে যুগ অতিবাহিত করেছেন তা ছিল একটি বিপদশঙ্কুল সময় আর সেটারই ইঙ্গিত ছিল যে, তিনি ঠিকমতো পান করার সুযোগ পান নি।
হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতের নির্বাচনের জন্য যে মজলিসে শূরা গঠিত হয়েছিল এ বিষয়ে হযরত মিসওয়ার বিন মাখরামা বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) এর ওপর আক্রমণের পর যতক্ষন তিনি (রা.) ভাল ছিলেন, তখন তার নিকট বারংবার কাউকে খলীফা মনোনীত করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি(রা.) সেই আবেদন নাকচ করতে থাকেন। একদিন তিনি (রা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে কয়েকটি কথা বলেন। তিনি (রা.) বলেন, যদি আমি মৃত্যুবরণ করি তাহলে সেই ছয় ব্যক্তির হাতে তোমাদের বিষয়টি ন্যস্ত হবে- যাদের প্রত্যেকের প্রতি রসূলুল্লাহ (সা.) নিজ মৃত্যুর সময় সন্তুষ্ট ছিলেন। আলী বিন আবু তালিব (রা.) এবং তারই সমতুল্য যুবাইর বিন আওয়াম (রা.), আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.) এবং তার সদৃস উসমান বিন আফ্ফান (রা.), তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রা.) এবং তার সমতুল্য সাদ বিন মালেক (রা.)। এরপর তিনি (রা.) বলেন, সাবধান! আমি তোমাদেরকে যে কোন সিদ্ধান্তে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং বন্টনে ন্যায়বিচার করার আদেশ দিচ্ছি। আবু জাফর বর্ণনা করেন, হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা.) খিলাফত নির্বাচনের জন্য মজলিসে শূরার সদস্যদের বলেন, তোমরা নিজেদের বিষয়ে পরস্পর পরামর্শ কর আর এরপর উভয় পক্ষে যদি দুটি করে ভোট পড়ে, তবে পুনরায় পরামর্শে বসবে এবং এরপর একপক্ষে চারটি ভোট এবং অপর পক্ষে দুটি ভোট পড়লে যে পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে সেই পক্ষ অবলম্বন কর। যায়েদ বিন আসলাম নিজ পিতার বরাতে বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) বলেন, যদি উভয় পক্ষে তিনটি করে ভোট পড়ে তবে যে পক্ষে হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ থাকবেন সেই পক্ষের কথা শুনবে এবং মান্য করবে।
আব্দুর রহমান বিন সাঈদ বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) যখন আহত হলেন, তখন তিনি বললেন, সুহায়েব তোমাদেরকে তিন দিন পর্যন্ত নামায পড়াবে অর্থাৎ সুহায়েবকে ইমামুস সালাত নির্ধারণ করলেন। এরপর নিজেদের এ বিষয়ে অর্থাৎ, খিলাফত সম্পর্কে পরামর্শ কর আর এ বিষয়টি উক্ত ছয় ব্যক্তির ওপর অর্পিত করা হয়েছে। এরপর যে তোমাদের বিরোধীতা করবে, তাকে হত্যা করবে।
হযরত আনাস বিন মালিক বর্ণনা করেন, হযরত উমর তাঁর মৃত্যুর কিছুক্ষণ পূর্বে হযরত আবু তালহার প্রতি এমর্মে সংবাদ প্রেরণ করলেন যে, হে আবু তালহা! তুমি তোমার জাতির পঞ্চাশজন আনসার সদস্যকে নিয়ে সেই শূরা সদস্যদের কাছে চলে যাও এবং তিন দিন পর্যন্ত তাদেরকে পরিত্যাগ করবে না যতক্ষণ না তারা নিজেদের মাঝে কাউকে আমীর নির্বাচিত করে নেয়। হে আল্লাহ্! তুমি তাদের জন্য আমার স্থলাভিষিক্ত।
ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ্ বর্ণনা করেন, হযরত আবু তালহা তাঁর সাথীদের নিয়ে হযরত উমরের কবর তৈরির সময় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। এরপর শূরার সদস্যদের সাথেই থাকেন। এরপর শূরার সদস্যরা নিজেদের বিষয় আব্দুর রহমান বিন অউফ এর হাতে অর্পন করলেন এবং বললেন যে, তিনি যাকে চান আমীর নিযুক্ত করতে পারেন। হযরত উসমান (রা.) এর হাতে হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফের বয়আত গ্রহণ না করা পর্যন্ত হযরত আবু তালহা হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফের ঘরের দরজার সামনে অবস্থান করেন।
হযরত সালমা বিন আবু সালমা তার পিতার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, সর্বপ্রথম হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ হযরত উসমান (রা.) এর হাতে বয়আত গ্রহণ করেন। এরপর হযরত আলী (রা.)।
হযরত উমরের মুক্ত দাস উমর বিন আমীরা তার দাদার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, আমি দেখেছি, সর্বপ্রথম হযরত আলী হযরত উসমান (রা.)-এর হাতে বয়আত গ্রহণ করেছেন। এরপর লোকেরা পর্যায়ক্রমে তাঁর বয়াত গ্রহণ করেছেন।
সহীহ বুখারীতে হযরত উমরের অন্তিম সহ্যায় পরবর্তী খলিফাকে উপদেশ প্রদান এবং মজলিসে শুরা সম্পর্কে যে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে তার উল্লেখ এভাবে দেখা যায়, মানুষ বলে আমীরুল মুমিনীন ওসীয়্যত করে দিন; কাউকে খলীফা নিযুক্ত করুন। তিনি বললেন, আমি এ খেলাফতের যোগ্য সেই কয়েকজন লোকের চেয়ে বেশী আর কাউকে পাই না, যাদের প্রতি রসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ইন্তেকালের সময় সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি হযরত আলী, হযরত উসমান, হযরত যুবায়ের, হযরত তালহা, হযরত সা’দ এবং হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফ রাযিয়াল্লাহু আনহুমের নাম উচ্চারণ করলেন। আর বললেন, আব্দুল্লাহ বিন উমর তোমাদের সাথে থাকবে কিন্তু এ খেলাফতে তার কোন অধিকার থাকবে না। এর পূর্বেও আমি এই রেওয়াত বর্ণনা করেছি তাই এখানে সংক্ষেপে বলছি। যাহোক হযরত উমরের (রা.) মৃত্যুর পরে তাঁর দাফন সম্পন্ন করে সেসব ব্যক্তিরা একত্রিত হলেন যাদের নাম হযরত উমর (রা.) নিয়েছিলেন। হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফ বললেন, নিজের বিষয়টি নিজেদের মধ্য থেকে তিনজনের হাতে হস্তান্তর কর। হযরত যুবায়ের (রা.) বললেন, আমি আমার অধিকার হযরত আলীর (রা.) নিকট হস্তান্তর করলাম। হযরত তালহা (রা.) বললেন, আমি আমার অধিকার হযরত উসমান (রা.)কে দিলাম। আর হযরত সা’দ বললেন, আমি আমার অধিকার হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফ (রা.)কে দিলাম। হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফ (রা.) হযরত আলী (রা.) ও হযরত উসমান (রা.)কে বললেন, আপনাদের মাঝে যে ব্যক্তি এ বিষয় থেকে হাত গুটিয়ে নিবে, আমরা তাঁর হাতে এ দায়িত্বভার ন্যস্ত করব অর্থাৎ খেলাফতের নির্বাচনের বিষয়টি তাঁর নিকট অর্পন করা হবে আর আল্লাহ এবং ইসলাম তাঁর তত্ত্বাবধায়ক হবে। তাদের মাঝে প্রত্যেকেই তার নাম প্রস্তাব করবেন- যিনি তাঁর দৃষ্টিতে সর্বোত্তম। এ কথাটি দুই বুযুর্গকেই বাকরূদ্ধ করে দিল। অতঃপর হযরত আব্দুর রহমান বিন অউফ (রা.) বললেন, আপনারা কি বিষয়টি আমার হাতে অর্পন করছেন? যে আপনাদের মাঝে যে সর্বোত্তম তাঁকে নির্বাচিত করার ব্যাপারে কোন ক্রুটি করবো না; আল্লাহ এ ব্যাপারে আমার তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ আমার কাছে দায়িত্ব অর্পন করুন। এখন কমিটির সভাপতির দায়িত্বভার আমার ওপর অর্পিত হবে। প্রথমে তাদের দুই জনের মাঝে কোন এক জনকে সভাপতি বানানোর কথা বলেন। তারা নিজেদের নাম প্রত্যাহার না করার কারণে সভাপতির কাজ এখন এভাবে হবে। অতঃপর তিনি বলেন, আমি যে সিদ্ধান্তই দিবো তা ন্যায়ের ভিত্তিতে দিবো আর আল্লাহ আমার তত্বাবধায়ক। তারা উভয়ে বললেন, ঠিক আছে। এরপর হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ তাদের একজনের হাত ধরে নির্জনে নিয়ে গিয়ে বলেন, আপনি মহানবী (সা.)-এর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখেন আর ইসলামে আপনার এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে- তা আপনি ভালো করেই জানেন। আল্লাহ্ আপনার নিগরান, আপনি বলুন- আমি যদি আপনাকে আমীর নিযুক্ত করি তাহলে আপনি কি সুবিচার করবেন? আর আমি যদি হযরত উসমানকে আমীর নিযুক্ত করি তাহলে আপনি কি তার কথা মান্য করবেন অর্থাৎ প্রথমে হযরত আলীর হাত ধরে নিয়ে যান। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি তার তথা উসমানের নির্দেশ পালন করবেন? অতঃপর হযরত আব্দুর রহমান (রা.) অপরজনকে নির্জনে নিয়ে যান অর্থাৎ হযরত উসমানের পালা এলে তাকেও একইভাবে নিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করার পর হযরত উসমানকে সম্বোধন করে বলেন, আপনি আপনার হাত দিন অতঃপর তিনি তাঁর হাতে বয়আত করেন আর হযরত আলীও তাঁর হাতে বয়আত করেন এবং বাড়ির অন্যান্য লোকেরা ভেতরে প্রবেশ করে তারাও তাঁর হাতে বয়আত করেন।
হযরত উমর (রা.)-এর ইন্তেকাল এবং হযরত উসমান (রা.)-এর খলীফা নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে হযরত মুসলেহ মাওউদ (রা.) বলেন:
হযরত উমর (রা.) যখন আহত হন এবং তিনি অনুভব করেন যে, এখন তাঁর অন্তিম সময় সন্নিকট তখন তিনি ছয়জনের বিষয়ে ওসিয়্যত করেন যে, এরা যেন নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে খলীফা মনোনিত করে নেয়। সে ছয়জন হলেন, হযরত উসমান (রা.), হযরত আলী (রা.), হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.), হযরত সা’দ বিন আবি ওক্কাস (রা.) হযরত যুবায়ের (রা.) এবং হযরত তালহা (রা.)। এদের সাথে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-কেও পরামর্শে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মনোনিত করেন কিন্তু খিলাফতের অধিকার প্রদান করেন নি। আর তিনি তাকিদপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে যান যে, তারা যেন তিন দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আর উক্ত তিন দিনের জন্য সুহায়েবকে ইমামুস সালাত নিযুক্ত করেন আর পরামর্শের তদারকির দায়িত্ব হযরত মিকদাদ বিন আসওয়াদের ওপর ন্যাস্ত করেন। আর তাকে নির্দেশ দেন, তিনি যেন সকলকে এক জায়গায় একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করেন আর তিনি নিজে তরবারি নিয়ে যেন দরজায় পাহারারত থাকেন। অতঃপর তিনি (রা.) বলেন, যার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্টের মত থাকবে তার হাতে যেন সকলেই বয়আত করে আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তাকে হত্যা করবে। কিন্তু উভয় পক্ষে যদি তিনজন থাকে তাহলে আব্দুল্লাহ বিন উমর তাদের মধ্য থেকে যাকে প্রস্তাব করবে সে-ই খলীফা হবে। এই সিদ্ধান্তে যদি তারা সম্মত না হয় তাহলে আব্দুর রহমান বিন অওফ যার পক্ষে থাকবে তিনিই খলীফা হবেন। যেহেতু হযরত তালহা (রা.) তখন মদিনায় ছিলেন না তাই পাঁচজন সাহাবী পরামর্শ করেন কিন্তু কোন ফলাফল বের হলো না। দীর্ঘ আলোচনার পর হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ বলেন, ঠিক আছে, যে নিজের নাম প্রত্যাহার করতে চান, বলুন। সবাই যখন চুপ থাকে তখন হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.) বলেন, সর্বপ্রথম আমি আমার নাম প্রত্যাহার করছি। অতঃপর হযরত উসমান (রা.) বলেন, আমিও প্রত্যাহার করছি এরপর অন্য দু’জনও বলেন। হযরত আলী (রা.) নিশ্চুপ রইলেন। অবশেষে তিনি হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.)-এর কাছ থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন পক্ষপাতিত্ব করবেন না। তিনি অঙ্গীকার করেন আর সকল কাজ তার ওপর অর্থাৎ হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.)-এর হাতে ন্যাস্ত হয়। হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.) তিনদিন পর্যন্ত মদিনার প্রতিটি ঘরে গিয়ে নারী-পুরুষ সকলকে জিজ্ঞেস করেন যে, খেলাফতের বিষয়ে তাদের মত কার অনুকূলে। সব্ইা একবাক্যে হযরত উসমানের খেলাফত মেনে নিতে সম্মত হয়। অতঃপর তিনি নিজেও হযরত উসমান (রা.)-এর অনুকূলে মত প্রদান করেন আর তিনি খলীফা হয়ে যান।
আল্লামা ইবনে সা’দ লিখেন, ২৩ হিজরী সনের ২৯ জিলহজ রোজ সোমবার হযরত উসমানের হাতে বয়আত করা হয়। নায্যাল বিন সাবরা বর্ণনা করেন, হযরত উসমান (রা.) খলীফা নির্বাচিত হবার পর হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রা.) বলেন, জীবিতদের মধ্য থেকে আমরা সর্বোত্তম ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেছি আর আমরা এই নির্বাচনে কোনরূপ ত্রুটি করি নি। হযরত উসমান (রা.) খেলাফতের পদে আসীন হবার পর প্রথম যে ভাষণ প্রদান করেন এ সম্পর্কে রেওয়ায়েত হলো, ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু রাবীআ মাখযুমী নিজের পিতার বরাতে বর্ণনা করেন যে, হযরত উসমানের হাতে বয়াতের পর তিনি জনসমক্ষে আসেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন। উক্ত ভাষণে তিনি (রা.) আল্লাহ তা’লার প্রসংশা ও গুণ-কীর্তন করার পর বলেন, হে লোক সকল! প্রথমে কাজ দুষ্করই হয়ে থাকে অর্থাৎ নতুন নুতন কেউ কাজ আরম্ভ করলে তা কঠিনই হয়ে থাকে। আজকের পর আরো দিন আসবে, আমি যদি জীবিত থাকি তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমাদের সামনে যথোপযুক্ত ভাষণও দিতে পারবো। আজ এই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করছি, ভবিষ্যতে যখন সময় আসবে তখন আমি যথোচিত ভাষণ দিব। এরপর তিনি বলেন, আমি বক্তা নই কিন্তু আল্লাহ তা’লা আমাকে বক্তৃতা করার রীতিও শিখাবেন ।
বদর বিন উসমান তাঁর চাচার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, শূরার সদস্যরা যখন হযরত উসমানের বয়আত করে নেয় তখন হযরত উসমান (রা.) তাদের সবার চেয়ে অধিক চিন্তিত অবস্থায় জনসমক্ষে আসেন। অতঃপর তিনি (রা.) মহানবী (সা.)-এর মিম্বরে এসে লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি আল্লাহ তা’লার প্রসংশা ও গুণকীর্তন করেন এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ প্রেরণ করে বলেন, তোমরা নিশ্চয় এমন এক নিবাসে অর্থাৎ পৃথিবীতে রয়েছ যা ছেড়ে যেতেই হবে ; আর তোমরা জীবনের শেষাংশে রয়েছ তাই মৃত্যুর পূর্বে তোমরা যতটুকু পুণ্যকর্ম করতে পার করে নাও। নিশ্চয় মৃত্যু তোমাদের ঘিরে রেখেছে আর এই শত্রু সকাল সন্ধ্যা তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত। সাবধান! এ পৃথিবী মিথ্যা ও প্রতারণায় পরিপূর্ণ। অতএব, এই পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে আর আল্লাহ সম্পর্কে মহাপ্রতারক শয়তান যেন তোমাদের ধোকায় না ফেলে। অতীত লোকদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর আর এরপর যথাসাধ্য চেষ্টা প্রচেষ্টা কর, উদাসীন থেকো না কেননা, আল্লাহ্ তা’লা তোমাদের বিষয়ে উদাসীন নন। সেসব জাগতপূজারী ও তাদের ভাইয়েরা কোথায় যারা ভূমিকে কর্ষণ করেছে আর একে আবাদ করেছে এবং এক দীর্ঘকাল এত্থেকে লাভবান হয়েছে, তাকি তাদেরকে ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দেয় নি। অতএব, তোমরাও জগতকে সেখানে নিক্ষেপ কর যেখানে আল্লাহ্ তা’লা একে নিক্ষেপ করেছেন। আর পরকালের প্রত্যাশী হও, পরকালকে সন্ধান কর, কেননা আল্লাহ্ তা’লা পরকালের উপমা এবং সেই বস্তু যা সর্বোত্তম তার উপমা দিয়ে বলেছেন,
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًا تَذْرُوهُ الرِّيَاحُ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُقْتَدِرًا* الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا (সূরা আল্ কাহ্ফ: ৪৬-৪৭)
এগুলো সূরা কাহ্ফ এর আয়াত। অর্থাৎ, “এবং তুমি তাদের সম্মুখে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা কর যা এরূপ বারিধারার ন্যায় যা আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি, অনন্তর এর সাথে ভূমিজ উদ্ভিদ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এরপর তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়, যাকে বাতাস উড়িয়ে বেড়ায়। আর আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান। ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা বা সৌন্দর্য। কিন্তু স্থায়ী সৎকাজ তোমার প্রভু-প্রতিপালকের দৃষ্টিতে পুরস্কারের দিক দিয়ে উত্তম এবং আশা-প্রত্যাশার দিক থেকেও উৎকৃষ্ট।” এরপর মানুষ তার হাতে বয়আত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হযরত উসমান (রা.)’র খিলাফতকালে যেসব বিজয় সাধিত হয়েছে তার উল্লেখ করছি। হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে আল্লাহ্ তা’লা নি¤েœাক্ত অঞ্চলগুলোতে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। আফ্রিকিয়াহ্ অর্থাৎ আলজেরিয়া এবং মরক্কোর অঞ্চল বিজিত হয়। ২৭ হিজরীতে স্পেন জয়। ২৮ হিজরীতে সাইপ্রাস জয়। ৩০ হিজরীতে তাবারিস্তান জয় হয়। সাওয়ারী, আরমেনিয়া এবং খুরাসান বিজিত হয় ৩১ হিজরীতে। রোমান সাম্রাজ্য অভিমুখে অগ্রযাত্রা, মরুর রাশিয়া, তালেকান, হারিয়াব, জুযাজান এবং তাখারস্তান জয় এবং বালাখ খরাদ বিজিত হয়- ৩২ হিজরীতে হয়। এছাড়া এ বিষয়ের উল্লেখও পাওয়া যায় যে, হযরত উসমান (রা.)’র যুগে ভারতবর্ষে ইসলামের শুভাগমন হয়ে গিয়েছিল। এসব অভিযান ও বিজয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ কিছুটা এরূপ:
২৭ হিজরীতে হযরত উসমান (রা.) হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আবী র্সাহ (রা.)-কে দশ হাজার সৈন্যসহ আফ্রিকিয়াহ্ অভিমুখে প্রেরণ করেন। আফ্রিকিয়াহ্ বলতে এখানে মরক্কো এবং আলজেরিয়ার এলাকা বুঝানো হয়েছে। অতএব আল্লাহ্ তা’লা মুসলমানদের বিজয় দান করেন। ২৭ হিজরীতে স্পেন বিজিত হয়। হযরত উসমান (রা.) আব্দুল্লাহ্ বিন নাফে’ বিন হুসাইন ফাহ্রী এবং আব্দুল্লাহ্ বিন নাফে’ বিন আবদে কায়েস ফাহ্রীকে আফ্রিকিয়াহ্ হতে স্পেন অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর তারা স্পেন অভিমুখে যাত্রা করেন আর আল্লাহ্ তা’লা মুসলমানদের বিজয় দান করেন। ২৮ হিজরীতে সাইপ্রাস বিজিত হয়। আবু মুহাশের এর ভাষ্য মতে, ৩৩ হিজরীতে সাইপ্রাস বিজিত হয়। কারো কারো মতে, ২৭ হিজরীতে সাইপ্রাস এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তাবারীর ইতিহাস এবং বিদায়াহ্ ওয়ান নাহায়াহ্ উভয়েই একে ২৮ হিজরীর ঘটনাবলীর মাঝে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই যুদ্ধে সাহাবীদের মধ্যে হযরত আবুযার গিফ্ফারী (রা.), হযরত উবাদাহ্ বিন সামেত (রা.) এবং তার সহধর্মিণী হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.), হযরত মিকদাদ (রা.), হযরত আবু দারদা (রা.) এবং হযরত শিদ্দাদ বিন অওফ (রা.) অর্ন্তভুক্ত ছিলেন। সাইপ্রাস সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, সেখানে অজ¯্র বাগান এবং খনি ছিল। সাইপ্রাস হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে এবং তার অনুমতি ও নির্দেশে আমীর মুয়াবয়ার হাতে বিজিত হয়। এই যুদ্ধে হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)ও যোগদান করেন যাকে পূর্বেই মহানবী (সা.) শাহাদতের সংবাদ দিয়েছিলেন। এই যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তার জন্য বাহন নিয়ে আসা হলে তিনি (রা.) তাতে আরোহণ করেন কিন্তু এর ওপর থেকে পড়ে গিয়ে তার গ্রীবার হাড় ভেঙ্গে যায়, ফলে তিনি শাহাদত বরণ করেন।
এই স্মৃতিচারণ অব্যহত আছে। আগামীতেও বর্ণনা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ্। আজও আমি দোয়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করছি, পাকিস্তানের আহমদীদের জন্য দোয়া করতে থাকুন, আল্লাহ্ তা’লা তাদের অবস্থা অনুকূল করে দিন। পাকিস্তানে বসবাসকারী আহমদীদেরকেও (আল্লাহ্ তা’লা) দোয়ার তৌফিক দিন, (তাদেরকে) আত্মসংশোধনের তৌফিক দিন আর আল্লাহ্ তা’লার সাথে সম্পর্ক নিবিড় করারও তৌফিক দিন। আর আল্লাহ্ তা’লা অচিরেই এই অন্ধকার দিনকে আলোয় রূপান্তরিত করে দিন যেন আমরা সেখানকার আহমদীদেরকেও স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় দায়িত্বাবলী পালন করতে দেখতে পাই- এ দোয়াই থাকবে।