ঈসা (আঃ) এর মৃত্যু

বুযুর্গানে দীনের অভিমত

নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবাগণ ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন। আঁ-হযরত (সাঃ)-এর মৃত্যুর পর খলীফা আউয়াল হযরত আবূ বকর (রাঃ) যে ভাষণ দিয়ে ছিলেন তাতে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর পূর্ববর্তী সকল নবীর ওফাত হয়েছে বলে উল্ল্যেখ করেছেন। আর উপস্থিত সকল সাহাবী প্রতিবাদ না করে এর সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। ঈসা (আঃ) একশত বিশ বৎসর জীবিত ছিলেন বলে হযরত ফাতেমা (রাঃ) বর্ণিত যে হাদীস ইতিপূর্বে উল্ল্যেখ করা হয়েছে তাতে বুঝা গেল যে, নবী করীম (সাঃ)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রাঃ) ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুতে বিশ্বাসী ছিলেন। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) বলেন, ২৭শা রমযানের রাত্রে হযরত ঈসা (আঃ)-এরও মৃত্যু হয়েছিল (তাবাকাত ইবনে সাদ, জিলদ ৩)। এই সব বর্ণনা থেকে প্রমাণ হয় যে, রসূল করীম (সাঃ)-এর পরিবারের সকলই হযরত ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুতে বিশ্বাস করতেন। বোখারীতে ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু প্রমাণকারী হাদীসগুলি ইমাম বোখারী (রাঃ) নিজ সহীতে লিপিবদ্ধ করায় প্রমাণ হল যে, তিনিও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুতে বিশ্বাসী ছিলেন। ইমাম মালেক (রঃ) ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুতে বিশ্বাস করতেন (মজমাউল বেহার, জিলদ, ১, পৃঃ ২৮৬)। ইমাম হাজম (রঃ) ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন (আলমুহল্লা, জিলদ, ১, পৃঃ ২৩)। মুতাজিলা ফিরকার বিশ্বাস হযরত ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু হয়ে গিয়েছে, (মজমাউল বয়ান, জিলদ ১)। দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা কাসেম নানুতবী সাহেব বলেন, “হযরত আদম থেকে আরম্ভ করে যত নবী হয়েছেন সকলেই মৃত্যুবরণ করেছেন” (লতায়েফ কাসেমীয়া, মুজতবায়ী প্রেস, দিল্লী, ২২ পৃঃ)।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10