Menu

ঈসা (আঃ) এর মৃত্যু

ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু প্রমাণ

ইহুদীরা যখন ঈসা (আঃ)-কে শূলে দিল তখন তিনি এই অভিশপ্ত মৃত্যু থেকে রক্ষা পাবার জন্য কাতরভাবে প্রার্থনা করতে লাগলেন, এলী এলী লামা সবক্তানী (মথি- ২৭:৪৬ দ্রষ্টব্য)।

আল্লাহ্ তাআলা ঈসা (আঃ) কে সান্ত্বনা দিয়ে বললেনঃ ‘ইয়া ঈসা ইন্নি মুতাওওয়াফফিকা ওয়া লাফেউকা ইলাইয়া ওয়া মুতাহহেরুকা মিনাল্লাযীনা কাফারূ’ অর্থঃ ‘হে ঈসা! আমি তোমাকে মৃত্যু দিব (অর্থাৎ বিরুদ্ধবাদীরা তোমাকে বধ করতে পারবে না) আমার দিকে উদ্ধরণ করব এবং কাফেরদিগের (অপবাদ) হতে তোমাকে পবিত্র করব (আলে ইমরান, রুকু ৬)। এই আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ঈসা (আঃ) এর স্বাভাবিক মৃত্যুর পর আল্লাহ্ নিজের দিকে তাকে ‘রাফা’ বা উদ্ধরণ করবেন এবং কাফেরদিগের মিথ্যা ইলজাম থেকে রক্ষা করবেন। কিছুক্ষণ পূর্বে আমরা সুরা নেসায় পাঠ করে এসেছি যে, ইহুদীদের মিথ্যা দাবী খন্ডন করে আল্লাহ্ বলেছেন যে, ঈসা (আঃ)-এর ‘রাফা’ হয়ে গিয়েছে। অতএব এর দ্বারা প্রমাণ হল যে, আল্লাহ্‌র ওয়াদানুযায়ী প্রথম ঈসা (আঃ)-এর ওফাত বা মৃত্যু হয়েছে, অতঃপর আল্লাহ্‌র দিকে ‘রাফা’ বা উদ্ধরণ হয়েছে এবং এতে কাফেরদিগের মিথ্যা ইলজাম থেকে তাঁকে পবিত্র করা হয়েছে। অনেকে বরেন মুতাওওয়াফফিকা অর্থ মৃত্যু নয়। কিন্তু তা ঠিক নয়। পবিত্র কোরআনের সর্বত্র ‘তাওওয়াফফী’ মৃত্যু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, ‘ওয়াল্লাযিনা ইউতাওওয়াফফাওনা মিনকুম’ অর্থঃ আর তোমাদের মধ্যে যারা মরে যায় (বাকারা রুকু, ৩১) ‘ওয়া তাওওয়াফফানা মায়াল আবরার, অর্থঃ আর আমাদিগকে সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে মৃত্যু দাও (আলে ইমরান, রুকু ২০)। ‘হাত্তা ইযা জায়া আহাদাকুমুল মাওতু তাওয়াফফাতহু’ অর্থঃ আল্লাহর প্রেরিত ফেরিশতা মৃত্যু ঘটায় (আনআম, রুকু ৮)। ‘রাব্বানা আফরিদ আলায়না সাবরাওঁ ওয়া তাওওয়াফফানা মুসলিমীন’ অর্থঃ ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদিগকে ধৈর্য দান কর এবং মুসলমান অবস্থায় আমাদিগকে মৃত্যু দান কর তফসীর বয়জবী, আবু সউদ, কবীর, ইবনে জরীর, কাতাদা ইবনে কসীর, ফারা, রুহুল বয়ান প্রভৃতিতেও ‘মুতাওওয়াফফিকা’ অর্থ মৃত্যু করা হয়েছে। আরবী ভাষায় বিখ্যাত অভিধান তাজুল উরুস, লেসানুল আরব ও কামুসেও এর অর্থ মৃত্যু লিখা রয়েছে। সহী বোখারী কিতাবুত তফসীরে বর্ণিত হয়েছে যে, কালা ইবনে আব্বাসিন মুত্তাওওয়াফফিকা মুমিতুকা অর্থঃ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, মুতাওওয়াফফিকা অর্থ মৃত্যু। আমরা জানাযার দোয়ায় বলে থাকি, ‘ওমান তাওওয়াফফায়তাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমানে’ অর্থাৎঃ হে আল্লাহ্! যদি আমাদেরকে মৃত্যু দাও তা হলে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু দিও। আহ্‌মদীয়া জামাতের পবিত্র প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন যে, যদি রাত্রি এবং নিদ্রার সম্পর্ক বিদ্যমান না থাকে আর আল্লাহ্ কর্তা হন তা হলে ‘তাওওয়াফফী’ অর্থ মৃত্যু ব্যতিরেকে যদি অন্য কিছু হয় বলে কেউ আরবী সাহিত্য থেকে প্রমাণ করতে পারেন তা হলে তিনি সেই ব্যক্তিকে এক সহস্র টাকা পুরস্কার দিবেন (ইযালায়ে আওহামঃ ৩৭৫ পৃঃ)। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউই প্রমাণ পেশ করতে সক্ষম হন নি। আমরা হঠকারীদেরকে পুনরায় আহবান জানাচ্ছি যে, যদি তারা পারেন তাহলে প্রমাণ পেশ করে আমাদের নিকট থেকে ঐ টাকা নিয়ে যেতে পারেন। ‘ওমা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন কাদ খালাত মিন কাবলিহির রুসুলু আফা ইম্মাতা আওকুতিলান কালাবতুম আলা আকাবিকুম’ (আলে ইমরান, রুকূঃ ১৫) অর্থঃ মোহাম্মদ রসূল ব্যতিরেকে অন্য কিছু নহে, আর পূর্বের সকল রসূল মরে গিয়েছে, অতএব, যদি সে মরে যায় অথবা কতল হয় তা হলে কি তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে? এখানে ‘খালাত’ শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় ঠিক নয়, কেননা, আয়াতে গত হওয়ার দু’টি পথ বর্ণনা করা হয়েছে যথা, মৃত্যু এবং কতল, অর্থাৎ পূর্ববর্তী নবীগণ এই দুই ভাবেই গত হয়েছেন, অতএব নবী মোহাম্মদ (সাঃ)ও যদি এইরূপে গত হয়ে যান তাহলে কি মুসলমানগণ মুরতাদ হয়ে যাবে? এই বলে আল্লাহ্ প্রাথমিক মুসলমানদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

আরবী ভাষার সর্ব বৃহৎ অভিধান তাজুল উরুসে আছে, ‘খালা ফলানুন’ বললে এর অর্থ হয়, অমুক ব্যক্তি মরে দিয়েছে। সহী বোখারী দ্বিতীয় খন্ডে আছে, আঁ হযরতের যখন মৃত্যু হল তখন হযরত ওমর (রাঃ) বলতে লাগলেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে রসূলের ওফাত হয়েছে, আমি তার শিরচ্ছেদ করব’। এর পর হযরত আবূ বকর (রাঃ) এসে আঁ হযরতের মুখের চাদর উন্মোচন করে দেখলেন এবং বাইরে এসে সকলকে সম্বোধন করে উপরে বর্ণিত আয়াত পাঠ করলেন। অর্থাৎ এই আয়াত পাঠ করে তিনি সকলকে জানিয়ে দিলেন যে, পূর্ববর্তী সকল নবীর ন্যায় হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)ও মৃত্যু প্রাপ্ত হয়ে গত হয়ে গিয়েছেন। এর পর বললেন, ‘ইয়্যা আইয়্যুহাননাসু মান কানা মিনকুম ইয়া’বুদু মুহাম্মাদান ফাকাদমাতা ওমান কানা ইয়্যাবূদুল্লা ফা ইন্নাল্লাহা হাইয়্যুন লা ইয়ামূতু’ অর্থাৎঃ হে লোক সকল! যারা মোহাম্মদের উপাসনা করতে তারা জেনে রাখ যে, তিনি মরে গেছেন আর যারা আল্লাহর উপসনা কর তারা জানবে তিনি চিরঞ্জীব,তিনি মরবেন না। তখন ঈসা (আঃ) জীবিত আছেন বলে কেউই প্রতিবাদ করলেন না। অতএব, এই আয়াতে ‘খালা’ মৃত্যু অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। ঈসা (আঃ)-এর পূর্ববর্তী নবীদের সম্বন্ধেও এইরূপ ‘খালা’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। যথাঃ ‘মাল মাসীহুবনু মারয়ামা ইল্লা রাসূলুন কাদ খালাত মিন কাবলিহির রসূল’ অর্থঃ ‘মসীহ ইবনে মরিয়ম একজন রসূল ব্যতীত অন্য কিছু নহে, তার পূর্ববর্তী সকল রসূলই গত হয়ে গিয়েছে’ (মায়েদা, রুকূঃ ১০)। এখানে ঈসা (আঃ)-এর পূর্ববর্তী নবীগণ যেভাবে গত হয়ে গিয়েছেন ঠিক সেই ভাবে আঁ-হযরত (সাঃ)-এর পূর্বের নবীগণও গত হয়ে গিয়েছেন। অতএব ঈসা (আঃ)-এর জীবিত থাকার আর কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না।

উপরে উল্লিখিত সুরা মায়েদার আয়াতে আরও বলা হয়েছে,‘ওয়া উম্মুহু সিদ্দিকাতুন কানা ইয়াকুলানিত্‌ তায়ামা’ অর্থঃ (ঈসার) মাতা এক সাধ্বী রমণী ছিল, তারা উভয়েই (ঈসা ও মরিয়ম) খাদ্য খেত (মায়েদা, রুকূঃ ১০)। এখানে বলা হয়েছে যে, ঈসা ও তার মা খাদ্য খেতেন অর্থাৎ এখন আর খান না। অথচ আল্লাহ্ বলেন,‘ওমা জায়ালনাহুম জাসাদল লাইলা কুলুনাত্‌ তায়ামা ওমা কানু খালীদিন’ অর্থঃ: আল্লাহ্ তার রসুল দিগকে এমন দেহ দেন নাই যে,তাঁরা না খেয়ে বাঁচতে পারে; আর না তার অস্বাভাবিক দীর্ঘ আয়ুর অধিকারী ছিল (আম্বিয়া রুকূঃ ১) এই আয়াতে ঈসা (আঃ)-এর না খেয়ে দুই হাজার বৎসর জীবিত থাকা মিথ্যা বিশ্বাশকে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। সুরা আম্বিয়ার তৃতীয় রুকুতে আছে,‘ওমা জায়ালনা লিবাশিম মিন কাবলিকাল খলদা আফা ইম্মিত্তা ফা হুমুল খালেদুন’ অর্থঃ: আর (হে মোহাম্মদ!) তোমার পুর্বে কোন মানুষকেই আমি অস্বাভাবিক দীর্ঘায়ু দান করিনি। অথচ তুমি মরে যাবে আর অন্যরা জিবিত থাকবে? এর দ্বারাও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুই প্রমান হয়। কিন্তু আশ্চর্য ! এর পরেও আমাদের গয়ের আহ্‌মদী ভাইয়েরা হযরত মোহাম্মদ (সা:) কে মৃত এবং ঈসা (আঃ) কে জীবিত মনে করে থাকেন। ঈসা (আঃ) নিজের সম্বন্ধে বলেন,‘ওয়া আওসাইনী বিস সালাতি ওয়ায্‌ যাকাতি মা দুমতু হাইয়া’(মরিয়ম, রুকূঃ ২) অর্থঃ আল্লাহ্ আমাকে হুকুম করেছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামায পড়তে ও যাকাত দিতে। দিনরাত যারা যাকাতের টাকার অন্বেষণে ঘুরে ফিরছে তারাও বলতে পারবেনা যে, ঈসা (আঃ) এখন যাকাত দিয়ে থাকেন। অতএব এর দ্বারাও প্রমান হয় যে ঈসা (আঃ) এখন আর জীবিত নেই। কেননা, জীবিত থাকলেই নামায পড়া ও যাকাত দেয়া তাঁর উপর ফরজ বাধ্যতামূলক হবে। সুরা নহলের দ্বিতীয় রুকুতে আছে, ‘ওয়াল্লাযিনা ইয়াদউনা মিনদুনিল্লাহি লা ইয়খলুকুনা শাইয়াওঁ ওয়াহুম ইউখলাকুন আমওয়াতুন গায়রু আহ্‌ইয়াইন’ অর্থঃ তারা যাদেরকে খোদার পরিবর্তে আহবান করে থাকে তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারেনা বরং তারাও সৃষ্ট। এরা জীবিত নয় মৃত। খ্রীষ্টানরা ঈসা (আঃ)-কে উপাস্যরুপে মান্য করে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্, বলেছেন যে এই সকল ঝুটা এবং কল্পিত উপাস্যগুলি জীবিত নয় বরং মৃত। এই আয়াত দ্বারাও খ্রীষ্টানদের মাবুদ (ঈশ্বরপুত্র) ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু প্রমাণ হয়। সুরা মায়েদার শেষ রুকুতে বর্নিত হয়েছে যে, খ্রীষ্টানদের বর্তমান বিশ্বাস সম্বদ্ধে আল্লাহ্‌তা’আলা ঈসা (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করবেন যে, এইরূপ বিশ্বাস তিনি লোকদিগকে শিক্ষা দিয়েছেন কিনা। তখন ঈসা(আঃ) বলবেন ‘সুবহানাকা মাইয়া কুনুলি আন আকুলা মা লাইসালি বি হাক্কিন ইনকুন্তু কুলতুহু ফাসাদ আলিমতাহু তা’লামু মা ফি নাফসিকা ইন্নাকা আনাতা আল্লামুল গুয়োব।মা কুলতু লাহুম ইল্লা মা আমার তানি বিহি আনি বুদুল্লাহা রাব্বি ওয়া রাব্বাকুম ওয়া কুনতু আলাইহিম শাহিদাম মা দুমতু ফিহিম ফালাম্মা তাওয়াফফায়তানী কুনতা আনতার রকিবা আলাহিম ওয়া আন্তা আলাকুল্লে শাইইন শাহীদ’ অর্থঃ পবিত্রময়! আমি কি করে তা বলবো যা বলার কোন হক আমার নেই। আর যোদি বলেই থাকি তা হলে তুমিই জ্ঞাত আছ, তুমি জান আমার অন্তরে যা আছে কিন্তু আমি জানি না তোমার অন্তরের কথা, কেননা তুমিই একমাত্র অদৃশ্য সম্বদ্ধে জ্ঞাত। আমি তা ই বলেছিলাম যা তুমি আমাকে বলতে আদেশ করেছিলে বলেছিলাম,। উপাসনা কর আল্লাহর যিনি আমার এবং তোমাদের প্রভু, এবং এই বিষয়ে আমি সক্ষি ছিলাম,যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, অতঃপর যখন তুমি আমাকে মৃত্যু দিলে তখন তুমিই পর্যবেক্ষক,আর তুমিইতো সর্ববিষয়ে সম্যক সাক্ষি। এই আয়াত পাঠে জানা যায় যে, ঈসা (আঃ) যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন খ্রীষ্টানগন সৎপথে ছিল কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তারা ঈসা (আঃ)-উপাস্য রূপে গ্রহন করেছে। ঈসা (আঃ)-কে জীবিত রাখার জন্য এখনও যারা শেষ চেষ্টা করছেন, তারা হয়ত বলবেন যে,এই কথোপকথন কেয়ামতের সময় হবে, এজন্য এর দ্বারা ঈসা (আঃ) এখন মৃত তা প্রমাণ হয়না । কেননা কেয়ামতের পুর্বে তিনি আকাশ থেকে অবতরনকরবার পর মৃত্যুবরণ করবেন। অতএব, এখানে যখন আমাকে মৃত্যু দিলে দ্বারা অবতরণের পরবর্তীকালের মৃত্যুকে বুঝাচ্ছে। এর উত্তর জেনে রাখা দরকার যে, খ্রীষ্টানগণ বহু পুর্বেই প্রকৃত শিক্ষা হতে দুরে সরে গিয়েছে, যদি সত্য সত্যই ঈসা (আঃ) আকাশ হতে অবতরন করে পুনরায় মর্ত্যে আগমন করেন তা হলে তিনি দেখতে পাবেন যে, খ্রীষ্টানগণ তাঁর অনুপস্থিতিতে ভ্রান্ত হয়েগিয়েছে এবং তাঁকে খোদার আসনে বসিয়ে পুজো করছে। অতএব, তিনি কিয়ামতের সময়ে বলতে পারবেন না যে খ্রীষ্টানগণ তাঁর মৃত্যুর পর সত্য ধর্ম হতে দুরে সরে গিয়েছে। বরং তখন তাঁকে ‘ফালাম্মা তাওয়াফফায়তানী’ স্থলে ফালাম্মা রাফাতানী ইলাস সামায়ী হাইয়া ’বলতে হবে। অর্থাৎ তাঁর জীবিত অবস্থায় আকাশে চলে যাওয়ার পর খ্রীষ্টানগন পথহারা হয়েছে বলতে হবে। বোখারী শরীফের তৃতীয় খন্ডের কিতাবুত্‌ তফসীরে আছে ,রসুল করীম (সাঃ) কেয়ামতের দিনে তাঁর একদল সাহবীকে দোযখের দিকে নিয়ে যেতে দেখবেন। তখন তিনি ‘এরা আমার সাহাবী’ বলে আহবান করবেন, তখন তাঁকে বলা হবে যে, এরা আপনার মৃত্যুর পরে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। আঁ-হযরত (সাঃ) বলেন, ‘তখন আমি সেই উত্তরই দিব ,যে উত্তর ঈসা (আঃ) দিয়েছিলেন। অর্থাৎ ‘কুনতু আলায়হিম শাহিদাম মা দুমতু ফিহীম ফালাম্মা তাওয়াফফায়েতানী কুনতা আনতার রকিবা আলায়হিম ইত্যদি’। এই হাদীস দ্বারা বুঝা গেল যে, রসুল করীম (সাঃ)-এর ওফাতের পর যেমন তাঁর কতিপয় সাহাবী মরতাদ হয়ে গিয়েছিল, তদ্রুপ ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর পরও তাঁর উম্মত সত্য ভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। খাতামান্নাবীঈন হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-এর এই ব্যাখ্যার পর ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু সম্মদ্ধে কোন প্রকৃত মুসলমানের আর কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10