Menu

ঈসা (আঃ) এর মৃত্যু

কোরআনের কষ্টি পাথরে ঈসা (আঃ) মৃত

পবিত্র কোরআনের সূরা নেসার ২২ রুকূতে আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদীদের দাবী উল্ল্যেখ করে বলেন, ‘ওয়া কাউলিহিম ইন্না কাতাল নাল মাসীহা ঈসাবনা মারয়ামা রাসূলাল্লাহি’- অর্থাৎ ‘(ইহুদীগণ) বলে আমরা বধ করেছি আল্লাহ্‌র রসূল (হওয়ার দাবীদার) মরিয়ম পুত্র মসীহ্‌কে’। এর প্রতিবাদে আল্লাহ্ বলেন, ওয়া কাতালুহু ওয়াম সাবাবুহু ওয়াকিন শুব্বিহা লাহুম, অর্থঃ- তারা (ঈসাকে) কতল করে নাই, শূলে দিয়েও বধ করে নাই তবে তদ্রুপই অর্থাৎ মৃতবৎ মনে হয়েছিল।’ এই আয়াতে ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের ভ্রান্ত বিশ্বাস খন্ডন করে আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন যে, ইহুদীরা ঈসাকে হত্যা করতে পারেনি এবং শূলে দিয়ে অভিশপ্তও করতে পারেনি, তবে শূলে ঈসাকে মৃত মনে করা হয়েছিল। কেউ কেউ বলেন, “ওমা সালাবুহু” বাক্য দ্বারা বুঝা যায় যে, ঈসা (আঃ)-কে শূলে দেয়া হয়নি। কিন্তু তা ঠিক নয়, কেননা, আরবীতে ‘সালাবা’ শব্দ শূলে দিয়ে মারা এবং হাড় চুর্ণ করা অর্থে ব্যবহৃত হয় (আরবী অভিধান দ্রষ্টব্য)। বাংলাতেও এরূপ ব্যবহার আছে। যেমন, যদি বলা হয় অমুক ব্যক্তির ফাঁসী হয়নি তবে এর অর্থ হবে, ঐ ব্যক্তির ফাঁসীতে মৃত্যু হয়নি। কোন ব্যক্তিকে ফাঁসীকাষ্ঠে উঠিয়ে আবার নামিয়ে দিলে তাকে ফাঁসী হওয়া বলে না। আরবীতে ‘সালাবা’র ব্যবহারও এইরূপ। অতএব ‘ওমা সালাবুহু’ দ্বারা প্রমাণ হয় যে, ঈসা (আঃ)-এর শূলে মৃত্যু হয়নি। এবং তাঁর হাড়ও চুর্ণ হয় নাই (যোহন- ২৯:৩৬ দ্রষ্টব্য)। এর কয়েক আয়াত পর আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ‘বার্রাফা হুল্লাহু ইলাইহী’ অর্থঃ‘ বরং আল্লাহ্ উদ্ধরণ করেছেন (ঈসাকে) নিজের দিকে’। এই আয়াতকে সম্বল করে একদল লোক ঈসা (আঃ)-এর আকাশে জীবিত থাকা বিশ্বাস করে। অথচ, এই আয়াত দ্বারা কোন প্রকারেই তাঁর আকাশে উঠা প্রমাণ হয় না। ইহুদীগণ ঈসা (আঃ)-কে শূলে বধ করে অভিশপ্ত প্রমাণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁকে এই প্রকার মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছেন এবং আত্মিকভাবে নিজের দিকে উন্নীত করেছেন। আরবী ‘রাফা’ শব্দ দ্বারা কেবল দৈহিকভাবে উপরে উঠান বুঝায় না, বরং এর দ্বারা আত্মিক উন্নতিও বুঝিয়ে থাকে। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এই জাতীয় বহু ব্যবহার বিদ্যমান রয়েছে। বালয়াম বাউর সম্বন্ধে সূরা আ’রাফের বাইশ রুকুতে আল্লাহ্ বলেন, ‘ওয়াওশিনা লারাফানাহু বিহা ওলা কিন্নাহু আখলাদা ইলাল আরযে’। অর্থঃ ‘আর আমরা যদি চাইতাম তা হলে তাকে উন্নীত করতাম। কিন্তু সে মর্ত্যের দিকে ঝুকে গেল’। এখানে ‘রাফা’ অর্থ কেউই আকাশে উঠা করবে না। সূরা মরিয়মের চার রুকূতে আল্লাহ্ ইদ্রীস (আঃ) সম্বন্ধে বলেন, ‘ওয়া রাফানাহু মাকানান আলীয়া’। অর্থঃ আমি তাকে এক উচ্চ মকামে উন্নীত করেছিলাম। এখানেও ‘রাফা’ দ্বারা সশরীরে উর্ধ্বে উঠা বুঝায় না। সূরা নূরের পঞ্চম রুকুতে আছে, ‘ফি বুয়ুতিন আজিনাল্লাহু আন তুরায়া ওয়া ইউয কারা ফি হাসমুহু’। অর্থঃ (আল্লাহ্‌র নূর) এমন ঘরগুলিতে আছে, যেগুলির উন্নতির আদেশ আল্লাহ্ দিয়েছেন।

সহী মুসলিম শরীফে আছে, ‘ওমা তওয়াজায়া আহাদুনলিল্লাহি ইল্লা রাফায়াল্লাহ্’। অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র জন্য বিনয়ী হয় আল্লাহ্ তাকে উন্নীত করেন।’ এই হাদীসে প্রত্যেক বিনয়ী এবং নম্র মুমিনের ‘রাফা’ হবে বলে রসূল করীম (সাঃ) বলেছেন। অথচ, ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তাঁকে নিজের দিকে ‘রাফা’ করেছেন।

আমরা সকলেই জানি আল্লাহ্ অসীম ও নিরাকার। তিনি সর্বত্র বিরাজমান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ বলেন, ‘ওয়া নাহনু আকরাবু ইলাইহী মিন হাবলিল অরিদ’ অর্থৎ আমি মানুষের জীবন শিরা থেকেও নিকটে (কাফ, রুকূঃ ২)। ‘ওয়া হুয়া মায়াকুম আইনামা কুনতুম’ অর্থঃ তোমরা (সৃষ্টি) যেখানে আমিও সেখানে, (হাদীদ, রুকুঃ ১)। ‘ওয়াসিয়া কুরসিউহুস সামাওয়াতে ওয়াল আরযে’ অর্থঃ আল্লাহ্‌র অবস্থিতি গগন-ভুবন ব্যাপীয়া, (বাকারা, রুকূঃ ৩৪)। হাদীসে আছে, ‘কুলুবুল মুহমিনীনা আরশুল্লাহ’ অর্থঃ বিশ্বাসীর অন্তরে আল্লাহর আসন। অতএব, আল্লাহর দিকে উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ আকাশে উঠান কখনও হতে পারে না। আল্লাহর দিকে উদ্ধরণ অর্থে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা বুঝায়। যেমন, কোরআনের অন্যত্র ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে বলা হয়েছে, ‘ওয়ামিনাল মুকাররাবিন’ অর্থাৎ ঈসা নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্গত (আলে ইমরান, রুকূঃ ৫)।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10