ঈসা (আঃ) এর মৃত্যু

মসীহ্‌ বিভ্রাট

সহী হাদীস পাঠে জানা যায় যে, আখেরী জামানায় যখন মুসলমান জাতি অধঃপতনের চরম স্তরে গিয়ে পৌঁছবে, সারা বিশ্বে বিকৃত খ্রীস্টান ধর্ম প্রসার লাভ করবে এবং সমগ্র জগতে যখন ব্যাপকভাবে যুদ্ধ-বিগ্রহ চলতে থাকবে তখন ক্রুশীয় মতবাদকে বাতিল এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ রহিত করে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করবার উদ্দেশ্যে মসীহ্‌ নবীউল্লাহ্‌ আগমন করবেন। তাঁর শুভাগমনে ইসলাম নব জীবন লাভ করে সারা দুনিয়ায় সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। এ সম্বন্ধে কয়েকটি হাদীস হলঃ

(১) “ইউশেকুমান আশামিনকুম আইয়ালকা ঈসাবনা মারয়ামা ইমামান মাহ্দীয়ান ওয়া হাকামান আদলান ফাইয়াক সেরুসসালীবা ওয়া ইয়াকতুলুল খিনজিরা ওয়া ইয়াযায়াল হারবা” (মসনদ আহ্‌মদ হাম্বল, জিল্‌দ-২, পৃঃ৪১১) অর্থঃ- তোমাদের (মুসামানদের) মধ্যে (তখন) যারা জীবিত থাকবে তারা অচিরেই ঈসা ইবনে মরিয়ম রূপে ইমাম মাহ্‌দীকে ন্যায়-বিচারক মীমাংসাকারীরূপে আসতে দেখবে। তিনি ক্রুশ ভঙ্গ করবেন, শূকর বধ করবেন ও যুদ্ধ রহিত করবেন।
(২) “কাইফা তাহ্লেকু উন্মাতুন আনা ফি আউয়ালিহা ওয়াল মাসীহু ফি আখিরিহা” (মেশকাত ও জামেউসসাগীর সাইউতি, জি-২, পৃঃ ১০৬) অর্থঃ- কি করে ধ্বংস হবে আমার উম্মত যার প্রথম দিকে আমি রয়েছি এবং শেষ দিকে মসীহ রয়েছেন।
(৩) “কাইফা আনতুম ইযা নাযালাবনু মারয়ামা ফিকুম ওয়া ইমামুকুম মিনকুম” (বোখারী)। অর্থঃ- কেমন হবে তখন যখন ইবনে মরিয়ম নাযিল হবেন, তোমাদের মধ্য হতে তোমাদেরই ইমাম হয়ে?

এ ধরণের আরও বহু রেওয়ায়াত হাদীস গ্রন্থে বিদ্যমান আছে।

এই প্রতিশ্রুত ঈসা নবীউল্লাহ্‌র আগমন সম্বন্ধে যদিও সমগ্র উম্মত একমত, কিন্তু শেষ যুগে ইসলাম-তরীর কর্ণধার এই মহাপুরুষের সত্য পরিচয় সম্বন্ধে যথেষ্ঠ ইখতেলাফ রয়েছে। গয়ের আহ্‌মদীগণ বলেন, এই প্রতিশ্রুত মসীহ্ নবীউল্লাহ্ হলেন বনীইস্রাঈলী নবী হযরত ঈসা (আঃ)। কিন্তু আহ্‌মদী জামা’ত নিম্নবর্ণিত কারণে এই বিশ্বাসের সমর্থন করেন না।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10