Menu

ঈদ শুভেচ্ছা ও কোরবানীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি

কুরবানী

কুরবানী সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (তাগিদকৃত সুন্নত) এবং ওয়াজিব (অবশ্য কর্তব্য)। কুরবানীর জন্যে নির্বাচিত পশু অবশ্যই হালাল, হৃষ্ট-পুষ্ট, নিখুঁত হতে হবে। অসুস্থ, দুর্বল, ল্যাংড়া, কান কাটা, শিং ভাঙা, অন্ধ পশুর কুরবানী জায়েয নয়। ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা হলে বয়স অন্তত এক বছর হতে হবে। গরু, মহিষ হলে বয়স কমপক্ষে দুই বছর হওয়া চাই। উটের বয়স ৩ বছর হতে হবে। গরু, উট জাতীয় প্রাণীতে কুরবানী সাতটি হিস্যায় (অংশে) দেয়া যায় এবং ছাগল, ভেড়া, দুম্বা জাতীয় প্রাণীর ক্ষেত্রে একটি হিস্যায় দেয়া যায়। একটি হিস্যা একজনের জন্যেও হতে পারে, একটি পুরো পরিবারের জন্যও হতে পারে। এভাবে হযরত রসূল করিম (সা.) এবং হযরত মসীহ মাওউদ (আ.) ও তাঁর খলীফাগণ অথবা মৃত পিতা-মাতার পক্ষ হতেও কুরবানী দেয়া যায়। উল্লেখ্য, হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা.) আহমদী জামাতের কেন্দ্র রাবওয়াতে সব মিস্কীনের পক্ষ হতে একটি পশু কুরবানী দিতেন। যিনি কুরবানী দিবেন তিনি যিলহজ্জ মাসের প্রথম তারিখ হতে কুরবানী দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত চুল, দাড়ি, নখ ইত্যাদি কর্তন করা হতে বিরত থাকবেন। এছাড়া তিনি ঈদের দিন কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত রোযা থাকবেন এবং সম্ভব হলে কুরবানীর মাংস দিয়ে রোযা খুলবেন। এটা আঁ-হযরত (সা.)-এর সুন্নত। কুরবানী করার সময় হল ১০ যিলহজ্জ ঈদের নামাযের পর থেকে ১২ যিলহজ্জ সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত। কুরবানীর মাংস সদকা নয়। মানুষ নিজেও খেতে পারে এবং আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদেরকেও খাওয়াতে পারে। তবে উত্তম হল তিনটি অংশ করা। একটি অংশ নিজে রাখবে, অপরটি আত্মীয়-স্বজন মাঝে বন্টন করবে আর অন্যটি গরীবদের মাঝে বিতরণ করবে। (ফিকাহ আহমদীয়া, পৃ. ১৮২-৮৩)।

ঈদের নামাযের পদ্ধতি

ফজরের পর সূর্য কিছু ওপরে উঠলেই ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং দ্বি-প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। ঈদের নামায দুই রাকা’ত। বিনা আযান ও ইকামতে এ নামায আদায় করতে হয়। এর পূর্বে কোন নফল নামায নেই। তাকবীরে তাহরিমা বেঁধে প্রথম রাকা’তে অন্যান্য নামাযের ন্যায় সানা পড়তে হয়। এরপর হাত ছেড়ে দিয়ে সাতবার তকবীর অর্থাৎ, ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে হয়। প্রতিবারই হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিতে হয়। সাতবার তকবীর দেয়া হয়ে গেলে হাত বেঁধে যথারীতি সূরা-কিরাত পড়তে হয়। দ্বিতীয় রাকা’তে কিরাত পড়ার পূর্বে পুনরায় পাঁচবার তকবীর পড়তে হয়। দুই রাকা’তে নামাযের নির্দিষ্ট তকবীর ছাড়া ঈদের নামাযে উল্লেখিতভাবে অতিরিক্ত ১২টি তকবীর পড়তে হয়। (তিরমিযী, পৃ. ৭০, সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃ. ৯১)। দুই রাকা’ত নামায পড়া হয়ে গেলে জুমু’আর খুতবার ন্যায় ঈদের নামাযেও ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করবেন। খুতবা সময়োপযোগী হওয়াই বাঞ্ছনীয়, খারাপ আবহাওয়ার দরুন বা অন্য কোন কারণে ঈদগাহে যাওয়া সম্ভব না হলে জামে মসজিদে ঈদের নামায পড়া জায়েয। ঈদগাহে এক পথে যাওয়া এবং অন্যপথে আসা সুন্নত। ঈদের দিনে মেসওয়াক করা, গোসল করা, আতর বা অন্য সুগন্ধি দ্রব্য ও সুরমা ব্যবহার করা, নতুন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা এবং উত্তম খাদ্য গ্রহণ করা সুন্নত। ঈদ-উল-ফিতরের নামাযের পূর্বে কিছু খেয়ে মসজিদে যাওয়া আর কুরবানীর ঈদের নামাযের পর নামায থেকে এসে কিছু খাওয়া সুন্নত। ঈদের নামাযের জন্য আসা-যাওয়ার রাস্তা যদি পৃথক হয় তাহলে তা মুস্তাহাব এবং অধিক সওয়াবের কারণ। ঈদ-উল-ফিতরের নামাযের পূর্বে জামাতের নিয়ম অনুযায়ী রোযার ফিতরা দান করা এবং ঈদ-উল-আযহার নামাযের পর সামর্থ্যবানদের কুরবানী করা কর্তব্য। ধনী, গরীব, বৃদ্ধ ও এক দিনের শিশু পর্যন্ত সকল মুসলমানের জন্যে বিনা ব্যতিক্রমে ফিতরানা সম্পূর্ণ বা অর্ধেক হিসাবে দেয়া ওয়াজিব। ঈদগাহে যাতায়াতের সময় ঈদ-উল-ফিতরে এবং ঈদ-উল-আযহিয়ায় নিম্নলিখিত তকবীর পাঠ করা উচিত আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ। অর্থ: আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ সর্ব শ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ, সব প্রশংসা আল্লাহ্র। এ তকবীর ঈদ-উল-ফিতরের নামাযের পর ইমাম ও মুক্তাদির কমপক্ষে তিনবার উচ্চস্বরে পাঠ করবেন। এরূপে যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাযের পর হতে শুরু করে ১৩ তারিখ আসরের নামায পর্যন্ত উক্ত তকবীর প্রতি ফরয নামাযের পর তিনবার করে উচ্চস্বরে পাঠ করতে হয়। ঈদগাহে আসা-যাওয়ার পথে নবী করিম (সা.) এবং তাঁর সাহাবাগণ (রা.)-ও এ তকবীর বেশি বেশি পড়তেন।

[সুত্রঃ ইসলামী ইবাদত ও দ্বীনি মা’লুমাত (ষষ্ঠ সংস্করণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩) ]