Menu

কিছু প্রশ্নের উত্তর

প্রতিশ্রুত মসীহ ও ইমাম মাহদী (আ.) কেন পৃথিবীতে আগমন করেছেন?

মহানবী (সা:) এর উচ্চ মর্যাদা, কোরআনের সত্যতা ও ইসলামের সৌন্দর্য পূণরুদ্ধারের জন্য ইমাম মাহদী (আ:) এ পৃথিবীতে আগমন করেছেন।
এ বিষয়টি হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর ভাষাতেই শুনে নেয়া যাক। প্রতিশ্রুত মসীহ ও ইমাম মাহদী (আ.) বলেছেন, আমি মহানবী (সা.)-এর হারানো সম্মানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং পবিত্র কুরআনের সত্যতা বিশ্ববাসীকে দেখানোর নিমিত্তে প্রেরিত হয়েছি। আর এ সব কাজ প্রতি নিয়ত হচ্ছে কিন্তু যাদের চোখে পর্দা রয়েছে তারা এগুলো দেখতে পায় না। অথচ এখন এ জামাত সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেছে আর এ জামাতের নিদর্শন ও সত্যতার এত লোক সাক্ষী আছে, তাদেরকে যদি একত্র করা হয় তাহলে তাদের সংখ্যা পৃথিবীর বুকে যেকোন বাদশাহর তুলনায়ও বেশী হবে।
তিনি (আ.) বলেন, জামাতের সত্যতার এমন এমন নিদর্শন রয়েছে, এর সবগুলো বর্ণনা করাও সহজসাধ্য বিষয় নয়। যেহেতু ইসলামের প্রতি চরম তাচ্ছিল্য প্রদর্শন ও অবমাননা করা হয়েছিল, এর ফলেই আল্লাহ তা’লা এর জবাব হিসেবে এই জামাতকে মর্যাদা ও সম্মান দেখিয়েছেন।
এই অন্ধকার যুগে হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলাম প্রচারের কাজ পুনরায় চালু করেছেন। তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে মুসলমানরা ইসলামের সুরক্ষা ও সেবার কাজে একেবারে উদাসীন ছিল। নিজের আশেপাশের লোকদের কখনও কখনও তবলীগ করতো কিন্তু তবলীগকে দায়িত্ব হিসাবে করার বিষয়টি মুসলমানদের মাথায়ই আসে নি। আর খ্রিস্টান-প্রধান দেশগুলোতে ইসলাম প্রচারের চিন্তাও করা হতো না। তিনি (আ.) ১৮৭০ এ প্রথম এদিকে দৃষ্টি দেন এবং সর্বপ্রথম চিঠিপত্রের মাধ্যমে এবং এরপর একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউরোপের লোকদেরকে ইসলামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম নিজ সকল সৌন্দর্য্যে অপরাপর সকল ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যদি কোন ধর্মের সাহস বা যোগ্যতা থাকে তাহলে এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেখতে পারে। মি. আলেকজেন্ডার ওয়েব বিখ্যাত আমেরিকান মুসিলম মিশনারী হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর লেখা পড়েই মুসলমান হয়েছিলেন এবং তিনি কেবল মসীহ মাওউদ (আ.)-এর সাক্ষাতের জন্যই ভারতে এসেছিলেন। ঠিক তখন অন্যান্য মুসলমান তাকে ভুল বুঝিয়ে বললেন, মির্যা সাহেবের সাথে সাক্ষাত করলে অন্যান্য সকল মুসলমান অসন্তুষ্ট হবে এবং আপনার কাজে তারা সহায়তা করবে না। কিন্তু তিনি আমেরিকা ফিরে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং আমৃত্যু তিনি তার এ কাজের জন্য অনুতপ্ত হবার বিষয়টি বিভিন্ন চিঠি পত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। আর আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের তবলীগের জন্য হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর মিশন কাজ করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরো বিশ্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিতভাবে কেবল মাত্র হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর জামাতই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে।
এটি কেবল হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর জীবদ্দশারই কথা নয় বরং তিনি তার রচনাবলীতে, তার পুস্তকাদিতে, তার বিভিন্ন বক্তব্যে মহানবী (সা.)-এর মর্যাদার বিষয়ে এবং পবিত্র কুরআনের সত্যতাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে যেভাবে আলোকপাত করে গেছেন এগুলো আজও মহানবী (সা.)-এর সম্মান এবং পবিত্র কুরআনের সত্যতাকে শত্রুদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করছে।
মুসলমানদের মাঝেও পবিত্র কুরআনের সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আলেম বিভিন্ন আয়াতকে মনসূখ বা রহিত আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.) এর বিপরীতে দ্রীপ্তকন্ঠে ঘোষণা করলেন যে পবিত্র কুরআনের কোন একটি আয়াতও মনসূখ বা রহিত নয়। প্রতেকটি আয়াত প্রতিটি শব্দ কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর এবং জীবন্ত আর যেসব আয়াত নিয়ে বিভিন্ন ফিরকা বিপাকের মাঝে ছিল সেগুলোর সঠিক ও গূঢ় তত্ত্ব স¤॥^লিত ব্যাখ্যা তিনি (আ.) জগতের সামনে উপস্থাপন করেছেন এবং সকল আপত্তিকারীর যৌক্তিক ও দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে কুরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
যখন অমুসলিমদের সামনে মহানবী (সা.)-এর জীবনীর সঠিক চিত্র তুলে ধরা হয় তারা তখন বলতে বাধ্য হন, যদি তাঁর সীরাত এমনই হয়ে থাকে, তার শিক্ষা যদি এমনই হয়ে থাকে তাবে নিঃসন্দেহে আমরা ভ্রান্তির মাঝে ছিলাম আর এ সত্যকে মানতে আমাদের কোন দ্বিধা নেই। অসংখ্য উদাহরণের মাঝে একটি হলো, ডেনমার্কের এক ইসলাম বিদ্বেষী তাদের ড্যানিশ পত্রিকায় তার এক প্রবন্ধে কার্টূন প্রকাশ করেছিল। সে যখন হুযূর (আ.)-এর বক্তব্য শুনেছে এবং ইসলামের অনিন্দ সুন্দর শিক্ষা সম্পর্কে অবগত হয়েছে তখন সে তাদের পত্রিকায় লিখতে বাধ্য হয়েছে, আহমদীয়া জামাতের ইমামের কথা শুনে আমি প্রকৃত সত্য জেনে গেছি এবং পাশাপাশি সে তার ভুলও স্বীকার করেছে।
হযরত মসীহ মাওউদ (আ.) আমাদেরকে যা কিছু বলে গেছেন এবং যেসব তত্ত্বজ্ঞান আমাদের সামনে উন্মোচণ করেছেন এসব কিছুর কারণ হলো, আল্লাহ্ তালা তাঁকে এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেই আবির্ভূত করেছিলেন যেন তিনি মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট করেন এবং পবিত্র কুরআনের সত্যতা ও মাহাত্ম্য এবং এর শিক্ষাকে জগদ্বাসীর কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
হযরত মসীহ মাওউদ (আ.) তার আগমনের উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে বলেন, এই রোগাক্রান্ত যুগে কুরআন শরীফের মাহাত্ম্য আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা আমার কর্তব্য। আর খোদা-প্রদত্ত আত্মিক জ্যোতিঃ, অনুগ্রহরাজি, ঐশী নিদর্শন আর খোদা-প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান দ্বারা ইসলাম ধর্মের ওপর আক্রমণকারী সকল শত্রুকে প্রতিহত করাও আমার কাজ”। (বারাকাতুদ্ দোয়া’ পুস্তক, রূহানী খাযায়েন, ৬ষ্ঠ খ-)
আল্লাহ্ তালার ফজলে আমরা সারা বিশ্বে হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-এর আগমনের যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল তা বাস্তবায়িত হতে দেখছি। সারা বিশ্বে আহমদীয়া জামাত সর্বস্তরে মহানবী (সা.) এবং পবিত্র কুরআন এবং ইসলামের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। অতএব এ ক্ষেত্রে নিজেদের মাঝে কোনরূপ হীনমন্যতা রাখা উচিত নয় বরং পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আগমনকারী এই মহাপুরুষের সাহায্যকারী হয়ে নিজেদেরও মুহাম্মদ (সা.), ইসলাম এবং কুরআনের বিশ্ব বিজয়াভিযানে অংশ নেয়া আবশ্যক।

প্রতিশ্রুত মসীহ ও ইমাম মাহদী (আ.)-কে মান্য করা জরুরী কেন?

এ বিষয়টিও চলুন আমরা হযরত মসীহ মাউদ (আ.) এর বক্তব্য থেকে জেনে নিই। একবার কিছু মৌলভী হযরত মসীহ মাওউদ (আ.)-কে প্রশ্ন করলো, আমরা নামায পড়ি, রোযা রাখি এবং কুরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি ঈমানও রাখি এ সত্ত্বেও আপনাকে মান্য করা কেন আবশ্যক? হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) এর উত্তরে বললেন, “দেখ! যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রসূল এবং কিতাবে ঈমান রাখার দাবী করে, আর এর শিক্ষামালা যেমন নামায, রোযা , হজ্জ, যাকাত, তাকওয়া তাহা পালন করে না এবং আত্মার সংশোধন করা, মন্দ পরিহার করা এবং পুণ্য অর্জনের বিষয়ে যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে তা পরিত্যাগ করে সেই ব্যক্তি মুসলমান আখ্যায়িত হবার যোগ্য নয়। মুসলমান হবার দাবী করছে কিন্তু সে সকল পুণ্যকাজ করে না, মন্দ কর্ম পরিহার করে না, উত্তম পন্থা অবল¤॥^ করে না এমন ব্যক্তি নিজেকে মুসলমান বলার অধিকার রাখে না এবং তার ঈমানের অলঙ্কারে সুসজ্জিত হবার বিষয়টি সাব্যস্ত হয় না। তেমনিভাবে যে মসীহ মাওউদকে মানে না বা মানা আবশ্যক মনে করে না সেও ইসলামের গুঢ় তত্ত্ব এবং নবুওয়তের উদ্দেশ্য ও রিসালতের লক্ষ্য সম্পর্কে একেবারেই অনবহিত। অর্থাৎ সে বুঝেই না নবুওয়তের প্রয়োজনিয়তা কি? এর কি কি উদ্দেশ্য? আর সে প্রকৃত মুসলমান এবং আল্লাহর প্রকৃত অনুগত বান্দা আখ্যায়িত হবার যোগ্যই নয়। আল্লাহ্ তা’লা যেভাবে মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনে বিধিনিষেধ দিয়েছেন তেমনিভাবে আখেরী যুগে একজন আখেরী খলীফার আগমনের ভবিষ্যদ্বানীও জোরালোভাবে করেছেন। আর তাঁর অমান্যকারী এবং তাঁর থেকে যারা বিমুখ হবে তাদের নাম ফাসেক রেখেছেন।
তোমাদের মাঝে যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে আল্লাহ্ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদের খলীফা বানাবেন, যেভাবে তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের খলীফা বানিয়েছিলেন। আর অবশ্যই তিনি তাদের জন্য তাদের ধর্মকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দেবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির অবস্থার পর অবশ্যই তিনি তা নিরপত্তায় বদলে দেবেন। তারা আমার ইবাদত করবে (এবং) আমার সাথে কাউকে শরীক সাব্যস্ত করবে না। আর এরপরও যারা অকৃতজ্ঞতা করবে তারাই ফাসেক বা দু®কৃতকারী” (সূরা নূর: আয়াত ৫৬ দ্রষ্টব্য)]
কুরআন এবং হাদীসে শব্দগত যে পার্থক্য তা কোন পার্থক্য নয় বরং ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনে ব্যবহৃত শব্দের ব্যখ্যা করা হয়েছে মাত্র। আর তা হলো, পবিত্র কুরআনে খলীফা শব্দ বলা হয়েছে এবং হাদীসে এই আখেরী খলীফাকে মসীহ মাওউদ নাম ব্যবহার করে ব্যখ্যা করা হয়েছে। অতএব পবিত্র কুরআন যে ব্যক্তির আবির্ভাবের বিষয়ে ওয়াদা’ (অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি) শব্দ ব্যবহার করেছে তেমনিভাবে যে ব্যক্তির আবির্ভাবকে এক বিশেষ বিশেষত্ব ও মাহত্ম দান করেছে, সে কেমন মুসলমান যে বলে তাকে মান্য করার আমাদের প্রয়োজন কী?”
তিনি (আ.) বলেন, “ইসলামে খলীফার আগমনকে আল্লাহ তা’লা কিয়ামত পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন এবং ইসলামের একটি বিশেষত্ব ও মাহাত্ম্য হলো এর সমর্থন ও নবায়নের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীতে মুজাদ্দেদ এসেছেন এবং আসতে থাকবেন। দেখ! আল্লাহ তালা মহানবী (সা.)-কে হযরত মুসা (আ.)-এর সদৃশ আখ্যা দিয়েছেন। আর এটি কামা’ শব্দ দ্বারা প্রমাণিত। মুসা (আ.)-এর শরীয়তের শেষ খলীফা হযরত ঈসা (আ.) ছিলেন। যেমন তিনি নিজেই বলেন, আমিই শেষ ইট। তেমনিভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তেও এর (ইসলামের) খেদমত ও নবায়নের জন্য সব যুগেই খলীফা নিযুক্ত ছিলেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত আসতে থাকবেন। এভাবে সাদৃশ্যকে বজায় রেখে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রেক্ষিতে শেষ খলীফার নাম মসীহ মাওউদ রাখা হয়েছে। আর তার উল্লেখ সাধারণভাবে করা হয় নি বরং তার আগমনের লক্ষণাবলী পুরো ঐশী গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাইবেল, ইঞ্জিল, হাদীস এবং স্বয়ং পবিত্র কুরআনে তাঁর আগমনের লক্ষণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। সকল জাতি যেমন ইহুদী, খ্রিস্টান এবং মুসলমান সবাই তাঁর আবির্ভাবে বিশ্বাস করে এবং সবাই অপেক্ষমান। তাঁকে অমান্য করা কীভাবে ইসলামের শিক্ষা হতে পারে? আর তাঁর ব্যক্তিত্ব এমন যার জন্য আকাশেও আল্লাহ্ তা’লা নিদর্শন প্রদর্শন করেছেন এবং ভূপৃষ্ঠেও তিনি মোজেজা বা নিদর্শন দেখিয়েছেন। তাঁর সমর্থনে প্লেগ হলো এবং ভবিষ্যদ্বানীতে উল্লেখিত নির্ধারিত তারিখে চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ হলো। অতএব এমন ব্যক্তি যার সমর্থনে আকাশ নিদর্শন প্রকাশ করে এবং পৃথিবীও বলে উঠে এটিই সেই সময়- সে কি কোন সাধারণ ব্যক্তিত্ব হতে পারে যাকে মানা না মানা সমান? তাকে না মেনেও মুসলমান এবং খোদার প্রিয় বান্দা হবে! কখনও নয়। তিনি (আ.) বলেন, স্মরণ রেখো, প্রতিশ্রুত ব্যক্তির আগমনের সকল লক্ষণাবলী পূর্ণ হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্য পৃথিবীকে নোংরা করে দিয়েছে। মুসলমান আলেম উলামা এবং অধিকাংশ ওলি-আওলিয়া এই যুগকেই প্রতিশ্রুত মসীহর যুগ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, সেই মহাপুরুষ চতুর্দশ শতাব্দীতেই আবির্ভূত হবেন। আওলিয়াদের এবং অধিকাংশ আলেম-ওলামার সম্মিলিত সাক্ষ্যের পরও যদি কেউ সন্দেহ রাখে তবে তার উচিত পবিত্র কুরআনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করা এবং সূরা নূর গভীর মনোযোগের সাথে পড়া। দেখ, হযরত মুসা (আ.)-এর চৌদ্দশত বছর পর যেমন হযরত ঈসা (আ.) এসেছিলেন তেমনিভাবে মহানবী (সা.)-এর পর চতুর্দশ শতাব্দীতেই প্রতিশ্রুত মসীহ আবির্ভূত হয়েছেন। আর যেভাবে হযরত ঈসা (আ.) মুসাঈ সিলসিলার খাতামুল খুলাফা ছিলেন তেমনিভাবে এ ধারাতেও প্রতিশ্রুত মসীহ খাতামুল খুলাফা হবেন।
অতএব যার কথা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ, ওলী-আওলিয়া, মুজাদ্দেদ এমনকি মহানবী (সা.) বলে গেছেন এবং যার সমর্থনে আল্লাহ্ তা’লা নিদর্শন প্রকাশ করেছেন তাকে মান্য করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা কেন চাঁদা দেই?

চাঁদা আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত কর্তৃক আবিষ্কৃত কোন জিনিষ নয় বরং এটি ইসলামের অবশ্যকরণীয় শিক্ষাগুলোর একটি। মনে রাখতে হবে, চাঁদা কোন ট্যাক্স বা কর নয় বরং এটি সেই সমস্ত ফরজ কাজগুলোর একটি যেগুলো আদায়ের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ দিয়েছেন। একস্থানে আল্লাহ তালা বলেন,
فَاتَّقُوا اللہَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَ اسْمَعُوۡا وَ اَطِیۡعُوۡا وَ اَنۡفِقُوۡا خَیۡرًا لِّاَنۡفُسِکُمْ ؕ وَ مَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفْسِہٖ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الْمُفْلِحُوۡنَ اِنۡ تُقْرِضُوا اللہَ قَرْضًا حَسَنًا یُّضٰعِفْہُ لَکُمْ وَ یَغْفِرْ لَکُمْ ؕ وَ اللہُ شَکُوۡرٌ حَلِیۡمٌ
“অতএব আল্লাহর তাক্ওয়া অবল¤॥^ন কর তোমাদের সাধ্যানুসারে, (তাঁর কথা) শুন ও আনুগত্য কর এবং (তাঁর পথে) খরচ কর। (এটা) তোমাদের নিজেদের জন্যই উত্তম। আর যাকেই তার লোভলালসা থেকে রক্ষা করা হয় তারাই সফল হবে।” (সূরা তাগাবুন: আয়াত ১৭)
“তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিলে তিনি তা তোমাদের জন্য বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ্ অতি গুণগ্রাহী (ও) পরম সহিষ্ণু।” (সূরা তাগাবুন: আয়াত ১৮)
অতএব এসব আয়াত হতে স্পষ্ট, খোদার পথে খরচ করা একজন মোমেনের জন্য একান্ত আবশ্যক একটি বিষয়। যারা খোদার রাস্তায় খরচ করেন তারাই সফলকাম হবেন। খোদার রাস্তায় তোমাদের খরচ করা এমন যেমন তোমরা আল্লাহ্কে কোন ঋণ দিয়েছ এবং আল্লাহ তালা সেই সত্তা যিনি বান্দাকে তার কুরবানীর প্রতিদানে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন। শুধু তাই নয় যারা আল্লাহ্ তালার রাস্তায় অর্থ ব্যয় করেন আল্লাহ্ তা’লা তাদেরকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে এর প্রতিদান দেন। আল্লাহ তালা অমুখাপেক্ষি এবং সর্বনির্ভরস্থল মানুষের টাকা-কড়ির তার কোন প্রয়োজন নেই। মূলত, আমাদেরকে পবিত্র করার জন্য, আমাদের আনুগত্যের মান যাচাই করার জন্য, আমাদের তাকওয়ার পথ অন্বেষণ করা- প্রত্যক্ষ করার জন্য, আমাদের আর্থিক কুরবানী করার দাবীর প্রকৃত মান দেখার জন্য আল্লাহ্ তা’লা বলেন, তাঁর রাস্তায় খরচ কর, তাঁর ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য খরচ কর।
হুযূর (আই.) বলেন,
“এই গুঢ় তত্ত্বটি প্রত্যেক আহমদীর বুঝা উচিত, আমরা চাঁদা কেন দেই? যদি কোন সেক্রেটারী মাল বা কোন জামাতের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য বা তার জালাতন থেকে রক্ষা পাবার জন্য চাঁদা দিয়ে থাকে তাহলে এমন চাঁদা দেয়ার কোন উপকারিতা নেই। বরং না দেয়াই ভাল। যদি অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে অগ্রগামী হয়ে চাঁদা দিয়ে থাকেন তাহলে এরও কোন লাভ নেই। মোটকথা, যদি চাদা দেয়ার উদ্দেশ্য খোদা তা’লার সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া অন্য কিছু হয় সেক্ষেত্রে এমন চাঁদা খোদা তা’লার কাছে অগ্রহণীও হতে পারে।
অতএব চাঁদাদাতাদের এমন চিন্তা রাখা উচিত যে, তারা চাঁদা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, এটি তাদের প্রতি খোদা তালার একটি পরম অনুগ্রহ। এমন নয় যে, কোন ব্যক্তির প্রতি বা জামাতের প্রতি বা আল্লাহ তা’লার জামা’তের প্রতি তারা চাঁদা দিয়ে অনুগ্রহ করছেন। অতএব প্রত্যেক চাঁদাদাতাকে নিজেদের মাঝে এই চেতনা রাখতে হবে যে, তারা চাঁদা দিয়ে খোদা তা’লার আশিসের উত্তরাধিকার হবার চেষ্টা করছেন। ঐশী জামাতের জন্য আর্থিক কুরবানী খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই আমি সকল জামাতকে বলেছি, নও-মোবাঈন এবং শিশু-কিশোরদেরও ওয়াকফে জাদীদ ও তাহরীকে জাদীদের চাদায় বেশী বেশী অংশগ্রহণ করানোর চেষ্টা করুন, এক পয়সা দিয়েও যদি কেউ এতে শামিল হয় হোক যেন সে অভ্যস্ত হয় এবং আল্লাহ তা’লার আশিস লাভ করতে পারে।”

চাঁদার গুরুত্ব সম্পর্কে এক স্থানে হযরত মসীহ মাওউদ (আ.) বলেন,
“পৃথিবীতে মানুষ অর্থকে অনেক বেশী ভালোবাসে, আর এ কারণেই স্বপ্নের তাবীরের গ্রন্থে লেখা আছে, যদি কেউ স্বপ্নে দেখে যে, সে তার কলিজা বের করে কাউকে দিয়ে দিয়েছে এর অর্থ হলো ধন-সম্পদ। একারণেই প্রকৃত তাকওয়া এবং ঈমান অর্জনের জন্য বলেছেন, লান তানালুল বির্রা হাত্তা তুনফিকু মিম্মা তুহিব্বুনঅর্থ।’ (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৯৩)
অর্থ প্রকৃত পুণ্য তুমি কখনও অর্জন করতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিষ হতে খরচ না করবে।
কেননা খোদার সৃষ্টির সাথে সমবেদনা এবং আচরণের একটি বড় অংশ অর্থ খরচ করার প্রয়োজন ঘোষণা করে এবং মানুষ ও আল্লাহর অন্য সকল সৃষ্টির প্রতি সমবেদনা একই জিনিষ যা ঈমানের অবিচ্ছেদ্দ একটি অংশ। এটি ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ ও সুদৃঢ় হয় না। মানুষ ত্যাগ স্বীকার না করলে সে অন্যের মঙ্গল সাধন কীভাবে করবে? অন্যের ভাল করা এবং সহমর্মিতার জন্য ত্যাগ স্বীকার একান্ত আবশ্যক একটি বিষয়। আর ‘লান তানালুল র্বিরা হাত্তা তুনফিকু মিম্মা তুহিব্বুন’ (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৯৩) আয়াত সেই ত্যাগ স্বীকারের দিকেই নির্দেশ করছে।
আল্লাহ তালার রাস্তায় অর্থ খরচ করাও মানুষের সৌভাগ্য এবং তার তাকওয়াশীল হবার বৈশিষ্ট ও লক্ষণ সাব্যস্ত করে। হযরত আবু বকর (রা.)-এর জীবনে আল্লাহর জন্য উৎসর্গের গুণ ও মান এমন ছিল, যখন রসূলুল্লাহ্ (সা.) একটি প্রয়োজনের উল্লেখ করেছেন তখন তিনি বাসার সব জিনিষ নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।”
এখানে একটি উদাহরণ দিলে আমরা চাঁদা কেন দেই তা আরো স্পষ্ট হবে। একজন মা তার আদরের সন্তানকে কিছু খাবার কিনে দিয়ে সন্তানের ভালবাসা দেখার জন্য সন্তানকে বলে “আব্বু আমাকে একটু দিবে?” মায়ের এ চাওয়া জিনিসটি পাওয়ার কোন আকাংক্ষা থেকে নয় বরং সন্তানের ভালবাসা পরখ করার জন্য। অসীম মমতা নিয়ে বান্দার কাছ থেকে আল্লাহর চাঁদা চাওয়া ঠিক একই রকম। সৌভাগ্যবান সেই সন্তান যে তা বুঝতে পেরে সাথে সাথে তা প্রদান করে।
অতএব আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা’লার স্পষ্ট নির্দেশের কারণে আমাদেরকে আর্থিক কুরবানী তথা চাঁদা দিতে হবে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে আর্থিক কুরবানীর গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।