ইসলাম

মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ

আল্লাহ্‌ তা’লা রহমান, পরম দয়ালূ। তাঁর রহমতের ১০০টি ভাগ রয়েছে। এর মাত্র একটি ভাগ তিনি সৃষ্টি জগতে বন্টন করেছেন। আর বাদবাকী ৯৯ ভাগ রহমত তিনি নিজের কাছে রেখেছেন যা দিয়ে পরকালে তিনি তাঁর বান্দাদেরকে নাজাত দান করবেন। (মুসনদ আহমদ, হাদীস নং-২২৬০৫)

আল্লাহ্‌ তা’লার অসংখ্য গুনবাচক নাম রয়েছে। এক হিসেবে এ গুণবাচক নামের সংখ্যা ৯৯টি। তাঁর মূল নাম হচ্ছে ‘আল্লাহ্‌’ বাকি সব তার গুন-প্রকাশক নাম। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস হলো, আল্লাহ্‌ যেমন অব���নশ্বর ঠিক তেমনি তাঁর সমস্ত গুন অক্ষয়, অমর। তাঁর কোন গুন বা বৈশিষ্ট্য অতীতেও অচল বা রহিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি অত তে যেমন দয়ালু ছিলেন আজও তেমনি দয়ালু এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। ঠিক তেমনি তিনি তা��র প্রিয় ও নৈকট্যপ্রাপ্তদের সাথে পূর্বে যেমন কথা বলতেন তেমনি আজও কথা বলেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন। তিনি তাঁর বান্দাদের কাছে এর মাধ্যমে অকাট্যভাবে নিজ অস্তিত্বের প্রমান তুলে ধরেন।

আল্লাহ্‌ তা’লার জীবন্ত অস্তিত্বের একটি জ্বলন্ত প্রমান হলো ‘দোয়ার কবুলিয়াত’। অর্থাৎ, তিনি তাঁর বান্দাদের কাতর হৃদয়ের প্রার্থনা শ্রবণ করেন এবং তার ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দার সাথে ইতিবাচক এক আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নিজেই দোয়ার পথ উম্মুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ

ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

অর্থাৎঃ তোমরা আমাকে ডাকার মত ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (আল-মুমিনঃ ৬১)

দোয়া ও দোয়া কবুলের দর্শনটি হলো ধর্মের প্রাণ বা মূল কথা। এটি আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের অকাট্য প্রমান।

এ যুগে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-এর পূর্ণ প্রেমিক ও অনুসারী হযরত ইমাম মাহ্‌দী ও প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আঃ) আবার জগদ্বাসীর সম্মুখে এ অমূল্য গুপ্তধনের বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। তিনি তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে সেই এক-অদ্বিতীয় আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। এক স্থলে তিনি বলেনঃ

“আমাদের খোদা অগণিত আশ্চর্য গুণের অধিকারী কিন্তু কেবল সে ব্যক্তিই তা দর্শন করতে পারে, যে সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর মাঝে বিলীন হয়ে যায়। যে ব্যক্তি তাঁর অসীম শক্তিতে বিশ্বাসী নয় এবং তাঁর খাঁটি ও বিশ্বস্ত সেবক নয়, তাকে তিনি সেসব আশ্চর্য লীলা প্রদর্শন করেন না। কত হতভাগ্য সে ব্যক্তি যে আজও জানে না, তার এমন এক খোদা আছেন যিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান! আমাদের খোদা-ই আমাদের বেহেশ্‌ত। আমাদের খোদার মাঝেই আমাদের পরম আনন্দ নিহিত। কেননা আমি তাঁকে দর্শণ করেছি এবং সকল প্রকার সৌন্দর্য তাঁর মাঝে প্রত্যক্ষ করেছি। প্রাণের বিনিময়ে হলেও এই সম্পদ লাভ করার যোগ্য। এ মণি ক্রয় করতে যদি সমস্ত শক্তি ও সামর্থ্যও ব্যয় হয়, তবুও তা ক্রয় করা উচিত। হে বঞ্চিত ব্যক্তিরা! এ ঝরনার পানে ছুটে এসো, এটি তোমাদেরকে পরিতৃপ্ত করবে। এ যে সেই জীবন্তসূধা যা তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করবে। আমি যে কী করি আর কীভাবে যে তোমাদেরকে এ সুসংবাদ হৃদয়াঙ্গম করাই! মানুষের শ্রুতিগোচর করার জন্য কোন জয়ঢাক পিটিয়ে ‘ইনিই তোমাদের খোদা’ একথা বলে বাজারে-বন্দরে ঘোষণা করি, আর কোন্‌ ঔষধ দিয়ে যে আমি তাদের চিকিৎসা করি যেন একথা শোনার জন্য তারা প্রস্তুত হয়!” (কিশতিয়ে নূহ)

Pages: 1 2 3 4 5