Menu

খাতামান্নাবীঈন

অবশ্য এটা আমরা বিশ্বাস করি, উম্মতে মুহাম্মদীয়াতেই এরূপ এক উম্মতি নবী আবির্ভূত হবেন, যিনি সর্ব্বোতভাবে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-এর কামেল গোলাম ও পরিপূর্ণ অনুগত দাস হবেন এবং যিনি তাঁর (সাঃ)-এর সার্বিক আধ্যাত্মিক দাস হবেন এবং যিনি নিজের সার্বিক আধ্যাত্মিক মার্গ ও মর্যাদার ক্ষেত্রে আপাদমস্তক তাঁরই (সাঃ) আধ্যাত্মিক কল্যাণে অনুগৃহীত হবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এরূপ উম্মতি নবীর আগমন কখনো খাতামান্নাবীঈন আয়াতের মর্মবিরোধী নয়; কেননা আত্মবিলীনকারী ও সর্বাঙ্গীন দাসকে তাঁর প্রভু হতে পৃথক করা যায় না।

হযরত খাতামান্নাবীঈন (সাঃ) এর বাণীর আলোকে আমাদের বিরুদ্ধবাদী আলেমগণও এ বিশ্বাস পোষণ করেন যে, ‘ঈসা নবীউল্লাহ্‌’ এ উম্মতের মাঝে নাযেল হবেন। (মুসলিম শরীফ, ২য় খন্ড, বাবু যিক্‌রিদ্দাজ্জাল)

আমরা কুরআন ও হাদীসের সুস্পষ্ট শিক্ষানুযায়ী বিশ্বাস করি, ঈসা ইবনে মরিয়ম মারা গেছেন। তাই হযরত খাতামান্নাবীঈনের (সাঃ) বাণীর আলোকে আমরা বিশ্বাস করি, আগমনকারী ‘ঈসা নবীউল্লাহ্‌’ উম্মতে মুহাম্মদীয়ার মাঝেই তাঁর (সাঃ) গোলামদের মধ্য হতেই সৃষ্টি হবেন। আমরা কুরআন, হাদীস ও বুযূর্গানে উম্মতের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করি, প্রতিশ্রুত আগমনকারী ‘ঈসা নবীঊল্লাহ্‌’ একদিকে যেমন নবী হবেন, তেমনি অন্যদিকে তিনি খাতামান্নাবীঈনের (সাঃ) উম্মতও হবেন। এ বিশ্বাস কখনও খত্‌মে নবুওয়তের পরিপন্থী নয়।

সূরা আন্‌-নিসার নবম রুকুর একটি আয়াত থেকেও আমারা জানতে পারি, ইসলামে উম্মতি নবীর আগমন হবে। আয়াতটি হলো, “আর যে ব্যক্তিই আল্লাহ্‌ তা’আলার এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আনুগত্য ও অনুবর্তিতা করবে তারা সেই সকল লোকদের দলভুক্ত হবে যাদেরকে খোদা তা’আলা পুরস্কারে ভুষিত করেছেন, অর্থাৎ নবীদের দলে, সিদ্দীকদের দলে, শহীদদের দলে, এবং সালেহীনদের দলে। আর এ সকল লোক সর্বোত্তম সাথী। এটা আল্লাহ্‌ তা’আলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ এবং আল্লাহ্‌ তা’আলা সকল বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত”।

এ আয়াতটিতে সুস্পষ্টতঃ জানানো হয়েছে যে, পুরস্কারপ্রাপ্তদের পথ হলো সেই পথ, যে পথে পরিচালিত ও পদচারণা করে মানুষ নবীদের, সিদ্দীকদের, শহীদদের এবং সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমাদের উপরোল্লিখিত বিশ্বাস যে খত্‌মে নবুওয়তের পরিপন্থী নয় তা ইসলামের অতীত বুযুর্গগণের উক্তি থেকেও আমরা জানতে পারি। এ ক্ষেত্রে বহু বুযুর্গের উক্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু স্থানাভাবে আমরা মাত্র কয়েকজন বুযুর্গের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছিঃ

ধর্মের অর্ধাংশের শিক্ষায়িত্রী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)-এর উক্তি সর্বপ্রথমে পেশ করছি। তিনি বলেনঃ

“তোমরা আঁ-হযরত সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম কে ‘খাতামুল আম্বিয়া’ (নবীগণের খাতাম) বলবে; তাঁর পরে কোন নবী নেই-এ কথা বলোনা”। (তাক্‌মেলা মাজমাউল বেহার, পৃষ্ঠা ৮৫; তফসীর আল-দুরুল মান্সুর, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৪)

শেখ আকবর হযরত মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী বলেনঃ

“হযরত ঈসা (আঃ) আমাদের মাঝে শরীয়ত ব্যতীরেকে ‘হাকাম’ (মীমাংসাকারী) রূপে অবতরণ করবেন এবং কোন সন্দেহ নেই যে, তিনি নবী হবেন”।

হযরত শাহ্‌ ওলিউল্লাহ্‌ মুহাদ্দিস দেহ্‌লভী (রহঃ) বলেনঃ

“নবুয়তের বিভিন্ন ভাগ বা প্রকার হয়ে থাকে। এর একটি ভাগ বা প্রকার হযরত খাতামান্নাবীঈন সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের পরেও বাকী আছে”। (ইমাম মালেক প্রণীত প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থের শরাহ্‌ বা ব্যাখ্যা ‘আল্‌-মুসাওয়া’, ২১৬ পৃষ্ঠা, দিল্লি হতে প্রকাশিত)

Pages: 1 2 3 4