Menu

খাতামান্নাবীঈন

আমরা আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের সদস্যরা খাতামান্নাবীঈন আয়াতের সেই সকল অর্থের উপরই ইমান রাখি, যা কুরআন ও হাদীস, উম্মতের বিগত সর্বমান্য আলেম ও ইমামগণের সর্বসম্মত অভিমত এবং আরবী ভাষার বাগধারা ও আরবী অভিধান এবং ব্যাকরণ সম্মত। আমরা যেভাবে আক্ষরিক অনুবাদ ও অর্থের ওপরো ঈমান রাখি সেভাবে এর আসল ও মৌলিক অর্থের ওপরও ঈমান রাখি। এ সকল অর্থের সার কথা হলো, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নবীগণের মাঝে সর্বাপেক্ষা কামেল (পূর্ণতম)। তিনি নবীগণের মোহর। তিনি নবীগণের শোভা ও সৌন্দর্য্য। নবুওয়তের সব গুণ ও বৈশিষ্ট্য তাঁর মাঝে পরিসমাপ্তি হয়েছে। কামালতের শেষ ও শীর্ষ পর্যায়ে তিনি পৌছেছেন। প্রত্যেক প্রকারের ঐশী কল্যান ও গৌরব তাঁর হাতেই ন্যস্ত করা হয়েছে। তাঁর শরীয়ত অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ্‌র কার্যকারিতা ও কর্তৃত্ব কিয়ামতকাল অব্দি চলতে থাকবে। তিনি আখেরী শরীয়তের ধারক ও বাহক রসূল এবং অবশ্য মান্য আখেরী নেতা ও নবী। আসল ও মৌলিক অর্থেও তিনি (সাঃ) সকল নবীর অবসানকারী। কেননা তাঁর আবির্ভাবের পর কোন পূর্ববর্তী নবীর ফয়েজ ও কল্যাণ জারী থাকা সম্ভব নয়। মোট কথা, আমরা শাব্দিক এবং মৌলিক উভয় অর্থেই হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-কে খাতামান্নাবীঈন বলে মান্য করি। তাই আমরা বিশ্বাস করি হযরত আদম (আঃ) সৃষ্টির পূর্বেই তিনি (সাঃ) খাতামান্নাবীঈন ছিলেন এবং তাঁর খতমে নবুওয়তের ফয়েজ ও কল্যাণ হতে অংশ লাভ করেই হযরত আদম (আঃ) সহ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আবির্ভূত হয়েছেন।

আমাদের বিরুদ্ধবাদীরা অভিযোগ করে, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-এর পর একজন উম্মতি ও যিল্লি (প্রতিচ্ছায়া) নবীর আসার পথ উন্মুক্ত করে দিয়ে আমরা খত্‌মে নবুওয়তের অস্বীকারকারী হয়ে পড়েছি।

Pages: 1 2 3 4