Menu

ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর সত্যতার প্রমাণ

উপসংহারঃ উদাত্ত আহ্বান

সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর আগমন ঘটেছে। তাঁর দাবীর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বাস্তব ঘটনা ও নিদর্শনাবলী দ্বারা। তিনি ইসলামের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রচার, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশ্ব-বিজয়কে বাস্তবে প্রতিপন্ন করার জন্য খিলাফত ভিত্তিক একটি সুসংবদ্ধ জামা’ত গঠন করেছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’ত প্রথম প্রতিষ্ঠা শতাব্দী অতক্রম করেছে ২২শে মার্চ ১৯৮৯ সালে। উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাঁর আর্বিভাবের পর হতে তিনশত বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ইসলামের মহাবিজয় এবং প্রচার সুসম্পন্ন হবে। উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রথম শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে আহ্‌মদীয়াতের প্রতিষ্ঠা শতাব্দী হিসাবে এবং আগামী দ্বিতীয় শতাব্দী (১৯৮৯-২০৮৯ খৃঃ) ও তৃতীয় শতাব্দী (২০৮৯-২১৮৯ খৃঃ) হবে আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলামের বিশ্ব-বিজয়ের শতাব্দী’।

হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) ঘোষণা করেছেন,

হে লোক সকল! শুনে রাখ যে, ইহা সেই খোদার ভবিষ্যদ্বাণী যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই জামা’তকে জগতের সমস্ত দেশে বিস্তৃত করবেন এবং যুক্তি-প্রমাণ ও নিদর্শনের মাধ্যমে সকলের উপর প্রাধান্য দান করবেন। …. আজকের দিন হতে তৃতীয় শতাব্দী পার হবে না, যখন ঈসা নবীর (আঃ) অপেক্ষারত কি মুসলমান কি খৃষ্টান সম্পূর্ণ নিরাশ ও হতাশ হয়ে (ঈসার আকাশ হইতে অবতরণের) এই মিথ্যা বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করবে এবং পৃথিবীতে তখন একই ধর্ম (ইসলাম) হবে এবং একই ধর্ম নেতা (হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)) হবেন। আমি কেবল বীজ বপন করতে এসেছি। অতএব আমার দ্বারা বীজ বপন করা হয়েছে। এখন এই বীজ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে এবং ফুলে ফলে সুশোভিত হবে। কেহ ইহাকে রোধ করতে সক্ষম হবে না। (তাযকেরাতুস-শাহাদাতায়ন, ১৯০৪ সনে প্রকাশিত)

হযরত রসূল করীম (সঃ) বলেছেন,

‘ইমাম মাহ্‌দী প্রকাশিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া মাত্রই তার বয়আত করিও, যদি বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়েও যেতে হয়। নিশ্চয় তিনি আল্লাহ্‌র খলীফা ইমাম মাহ্‌দী’। (ইবনে মাজা)

‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁকে (ইমাম মাহ্‌দীকে) পাবে, সে যেন তাঁর উপর ঈমান আনে এবং তাঁকে আমার সালাম পৌছিয়ে দেয়’। (কনজুল উম্মাল)

‘যে ব্যক্তি যুগ-ইমামের হাতে বয়আত না করে ইহ জগৎ ত্যাগ করেছে, সে জাহেলিয়তের মৃত্যুবরণ করেছে’। (মুসলিম, মসনদ আহ্‌মদ বিন হাম্বল)

হযরত রসূল আকরাম (সঃ)-এর নির্দেশাবলীর আলোকে আহ্‌মদী মুসলমানগণ হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) কে মেনেছে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছে। যদি পবিত্র রসূল (সাঃ)-এর ঐরূপ নির্দেশ না থাকতো তাহলে তারা কখনই উপরোক্ত দাবীকারকের কথায় কর্ণপাত করতো না।

আহ্‌মদীয়া জামাতের উন্নতি সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা’আলা হযরত মির্যা সাহেবকে (আঃ) সম্বোধন করে বলেন,

‘আমি তোমাকে ইসলামের এক বিরাট জামা’ত দান করব’ (বারাহীনে আহ্‌মদীয়া গ্রন্থের ৪র্থ খন্ডে ৫৫৬ পৃষ্ঠা এবং তাযকেরা গ্রন্থের ১০৭ পৃষ্ঠা)

তিনি আরও বলেছেন,

‘ইসলামের পূনরায় সেই সজীবতা ও উজ্জ্বলতার দিন আসবে যা পূর্বে ছিল এবং সেই সূর্য পুনরায় স্বীয় গৌরব সহকারে উদিত হবে যেমন পূর্বে উদিত হয়েছিল’ (ফতেহ্‌ ইসলাম)

আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁকে জানিয়েছেন,

‘আমি তোমার প্রচারকে বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে পৌছাবো’।

হযরত মির্যা সাহেব (আঃ) বলেছেনঃ

খোদা তা’আলা আমাকে বারংবার জানিয়েছেন যে, তিনি আমাকে বহু সম্মানে ভূষিত করবেন এবং মানুষের হৃদয় আমার প্রতি ভক্তিতে আপ্লুত করে দিবেন। তিনি আমার অনুসারীগণের জামা’তকে সারা বিশ্বে বিস্তৃত করবেন এবং তাদেরকে সকল জাতির উপর জয়যুক্ত করবেন। আমার অনুসরণকারীগণ এরূপ অসাধারণ জ্ঞান ও তত্ত্ব-দর্শিতা লাভ করবে যে, তারা নিজ নিজ সত্যবাদিতার জ্যোতিতে এবং যুক্তিপূর্ণ প্রমাণ ও নিদর্শনাবলীর প্রভাবে সকলের মুখ বন্ধ করে দিবে। সকল জাতি এই নির্ঝর হতে তৃষ্ণা নিবারণ করবে এবং আমার সংঘ ফল-ফুলে সুশোভিত হয়ে দ্রুত বর্ধমান হবে এবং অচিরেই সারা জগৎ ছেয়ে ফেলবে। বহু বাধা-বিঘ্ন দেখা দিবে এবং পরীক্ষা আসবে কিন্তু খোদা সেগুলোকে পথ হতে অপসারিত করে দিবেন এবং আপন প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন। (তাজাল্লিয়াতে ইলাহিয়া পৃষ্ঠাঃ ২২)

Pages: 1 2 3 4 5 6 7