ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর সত্যতার প্রমাণ

৪। আবির্ভাব যুগের অবস্থাবলীর সাক্ষ্য প্রমাণঃ

ক. আখেরী যামানার বিশেষ নিদর্শনাবলীর প্রকাশঃ সূরা তাকভীরঃ ২-১৯, ইনফিতার, ইনশিকাক, যিলযাল, বুরুজ, কারিয়াহ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কতকগুলো বিশেষ ঘটনা, চিহ্নাবলী এবং নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছে যদ্বারা ‘আখেরী যুগ’ সুষ্পষ্টরূপে চিহ্নিত হয়েছে।
খ. ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জাল সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীঃ সূরা আম্বিয়াঃ ৯৬-৯৮, কাফঃ ৫-৬ ও ৯৫-৯৯ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত তথ্যাবলী হতে একদিকে যেমন ইয়াজুজ-মাজুজ ও দাজ্জালের ফেতনা ফ্যাসাদ সম্পর্কে জানা যায়, অপরদিকে সেই ফেতনা হতে রক্ষাকারী প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আঃ)-এর আগমন সম্পর্কেও জানা যায়। ‘দাজ্জাল’ বলতে ত্রিত্ববাদী মতবাদ এবং ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ বলতে পাশ্চ্যত্যের দু’টি প্রধান সামরিক রাজনৈতিক জোট এবং উহাদের ফেতনার কথা বলা হয়েছে।
গ. ‘আযাব’ সংক্রান্ত ঐশী নীতির আলোকেঃ সূরা বনী-ইস্রায়েলঃ ১৬-১৭; রহমানঃ ৩২-৪৬, যিলযাল এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ঐশী আযাব হতে উদ্ধারকারী ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর আগমন পৃথিবীব্যাপী অগণিত আযাব ও ঐশী শাস্তিমূলক নিদর্শনের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ সম্পর্কে সমুজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করছে।
ঘ. ইহুদী জাতির পুনঃ একত্রীকরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিঃ সূরা বনী ইস্রায়েলঃ ১০৫, আম্বিয়াঃ ৯৮, ১০৬ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীস অনুযায়ী আখেরী যুগের অন্যতম বিশেষ নিদর্শন এবং সনাক্তকারী ঘটনা হিসেবে ‘ইস্রায়েল’ নামক ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (১৯৪৯ ইং) এবং দু’হাজার বছর পর ইহুদীদের পুনঃএকত্রিত হওয়ার ঘটনা জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে যে, বর্তমান যুগই প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আঃ)-এর যামানা।
ঙ. হাদীসের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীতে আখেরী যুগের অবস্থা এবং সনাক্তকারী বিশেষ চিহ্ন ও ঘটনাবলী সম্পর্কে উল্ল্যেখ করা হয়েছেঃ যানবাহন হিসেবে উটের ব্যবহার উঠে যাবে, ধর্মীয় জ্ঞান এবং যথাযথ অনুশীলনের তীব্র অভাব হবে, সৎকাজ হ্রাস পাবে, ঝগড়া-বিবাদ বৃদ্ধি পাবে, বেশী বেশী ভূমিকম্প হবে, বাদ্য-যন্ত্র এবং গায়িকা নারীর প্রাধান্য হবে, দলনেতা ফাসেক হবে, ইসলামের মাত্র নাম এবং কুরআনের মাত্র অক্ষর অবশিষ্ট থাকবে, মসজিদগুলি বাহ্যিক আড়ম্বরপূর্ণ হবে কিন্তু হেদায়াত শূণ্য হবে, আলেমগণ আকাশের নীচে নিকৃষ্টতম জীব হবে এবং ফেৎনা ফাসাদ ছড়াবে, আমানতের ব্যাপকভাবে খেয়ানত করা হবে, মানুষ অত্যধিক অত্যাচারী ও অহংকারী হবে, ব্যাভিচার বৃদ্ধি পাবে, সুদের ব্যাপক প্রচলন হবে, ধর্মকে দুনিয়ার পশ্চাতে রাখা হবে, অবৈধ সন্তান জন্মের হার বৃদ্ধি পাবে, উষ্ট্রচালকও বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করবে, মুসলমানগণ ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। (যার মধ্যে একটি ব্যতীত সকলে ঝগড়া-বিবাদের আগুনে থাকবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।) বলা অনাবশ্যক যে, বর্তমান যুগ বিশেষতঃ বিগত ১০০ বছরের পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, এই সকল ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়েছে এবং এখনও এগুলোর বহিঃপ্রকাশ চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত রয়েছে।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7