Menu

ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর সত্যতার প্রমাণ

১। পবিত্র শিক্ষাসহ আগমনের প্রমাণঃ

ক. সূরা জুমুআঃ ৩ নম্বর আয়াতে যে চারটি উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর আবির্ভাবের উল্ল্যেখ রয়েছে উক্ত ৪টি বিষয় ঐ সূরার ৪ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আখেরী যুগে আগমনকারী হযরত ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর জন্যও প্রযোজ্য।
খ. সূরা সাফঃ ৭ আয়াতে আগমনকারী মহাপুরুষকে ‘আহ্‌মদ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘আহ্‌মদ’ অর্থ ‘প্রশংসাকারী’ এবং ‘জামালী’ বা সৌন্দর্য প্রকাশক গুণাবলীর জন্যে প্রযোজ্য।
গ. ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) সংক্রান্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আধ্যাত্মিক নেতা হবেন (ইমামাম মানহ্‌দীয়ান) ন্যায়-বিচারক (হাকামান আদলান), ত্রিত্ববাদী ক্রুশীয় বিশ্বাসের মুলোৎপাটন করবেন (ইয়াকসারুস সালীব), ‘শূকর’ বধ করবেন (ইয়াকতুলুল খিনজির) অর্থাৎ শূকর তুল্য অপত্রিতা এবং নোংরামী দূরীভূত করবেন এবং ‘শূকর তুল্য’ দুষ্ট প্রকৃতির কিছু কিছু লোক তাঁর দোয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলকভাবে ঐশী শাস্তি ভোগ করবে এবং শান্তিবাদী নীতির অনুসরণ করবেন। (মসনদ আহ্‌মদ বিন হাম্বল ও অন্যান্য হাদীস)
ঘ. পবিত্র কুরআনে ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক নীতি দ্ব্যার্থহীনভাবে ঘোষিত হয়েছে (বাকারাঃ ২৫৭) এবং এই নীতি অনুযায়ী হযরত মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (আঃ) ঘোষণা করেছেন,

‘অসির কাজ আমি মসী দ্বারাই করেছি’

আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁকে সুলতানুল কলম তথা লেখনী সম্রাট উপাধি দ্বারা ভূষিত করেছেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন,

আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত সার হলো- “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ”। (তৌজিয়ে মারাম পৃঃ ২৩)

২। ঐশী-নিদর্শনমূলক প্রমাণঃ

ক. সূরা কিয়ামাহঃ ৯-১০ ও তাকভীরঃ ২ আয়াতের আলোকে এবং দারকুতনী হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) তাঁর দাবীর সত্যতার নিদর্শন রূপে চন্দ্র ও সূর্যের বিশেষ গ্রহণ ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে পূর্ব গোলার্ধে এবং ১৮৯৫ খৃস্টাব্দে পশ্চিম গোলার্ধে সংঘটিত হয়ে বিশ্বাবাসীকে তাঁর আগমন বার্তা জানিয়ে দিয়েছে। এই অপূর্ব ঘটনা সম্পর্কে প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থাবলীতেও উল্ল্যেখ রয়েছে। (মথি ২০:২৯-৩০, প্রকাশিত বাক্য ৬-১, ভগবত পুরানঃ ১৩ স্কন্দ)
খ. সূরা হাক্কাঃ ৪৫-৪৮ আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা বানিয়ে বললে তিনি মিথ্যাবাদীকে কঠোর শাস্তি দান করেন এবং কোন মানুষ সেই মিথ্যা দাবীকারককে ঐশী শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারবে না।
গ. সূরা জ্বিনঃ ২৭-২৮ আয়াতে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন যে, তাঁর মনোনীত বান্দাকে তিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে জানাতে পারেন। হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ) ওহী ইলহাম লাভের দাবী করেছেন এবং সেগুলো পবিত্র কুরআনের শিক্ষার অধীনে প্রাপ্ত।
ঘ. সূরা বাকারাঃ ৯০, আলে ইমরানঃ ৬২ এবং জুমুআঃ ৭ আয়াতে সত্যাসত্য নিরূপণের জন্য বিনীত দোয়ার মাধ্যমে ঐশী-মীমাংসার পদ্ধতি (মুবাহালা) বর্ণিত হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হাজার হাজার নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছে, বিরুদ্ধবাদীগণ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে এবং বহু নিদর্শন ভবিষ্যতে পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আহ্‌মদীয়া জামাতের ইতিহাস পাঠ করলে এই সকল বিষয়ে সম্যকভাবে জানা যাবে।
ঙ. খৃস্ট-ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনাবলীঃ পাদ্রী আব্দুল্লাহ আথমের সঙ্গে ভারতবর্ষের অমৃতসরে ১৫ দিন ব্যাপী বাহাস (১৮৯৩ইং), তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত ইলহাম ভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণী এবং ভবিষ্যদ্বাণীর শর্তানুযায়ী আথমের মৃত্যু। পাদ্রী হেনরী মারটিন ক্লার্ক কর্তৃক মিথ্যা মোকদ্দমা এবং পরিণামে হযরত মির্যা সাহেবের সম্মানজনক বিজয়ের নিদর্শন।
পাঞ্জাবের খৃস্ট সমাজের তৎকালীন লর্ড বিশপ রেভারেন্ড জর্জ লেফ্রাই সাহেবের প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং লেফ্রাই সাহেবের টাল বাহানা (১৯০০ ইং)।
শ্রীনগরের খানইয়ার মহল্লায় হযরত ঈসা (আঃ)-এর কবর সম্পর্কে ঘোষণা (১৮৯৫ ইং) এবং ‘মসীহ্‌ হিন্দুস্তান মে’ ও খৃস্টধর্ম সংক্রান্ত অন্যান্য পুস্তকাবলী প্রণয়ন ও প্রকাশ এবং অন্যান্য নিদর্শনাবলী।
চ. হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনাবলীঃ
১. পণ্ডিত লেখরাম পশোয়ারীর মৃত্যু সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী (১৮৯৩ ইং) এবং উক্ত ভবিষ্যদ্বাণীর যথাসময়ে পূর্ণতা (১৮৯৭ ইং)।
২. স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী এবং তাঁর মৃত্যু (১৮৮৩ ইং)।
৩. পণ্ডিত ইন্দ্রমোহন মোরাদাবাদীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং তাঁর পশ্চাদাপসরণ (১৮৮৫ ইং)।
৪. ‘শুভ-চিন্তক’ পত্রিকার পরিচালক সোমরাজ, পণ্ডিত ইচ্ছর চন্দ্র এবং পণ্ডিত ভগ্যরামের প্লেগ জনিত মৃত্যু (১৯০৭ ইং) এবং অন্যান্য নিদর্শনাবলী।
ছ. শিখদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলীঃ
১. হযরত মির্যা সাহেব (আঃ) ১৮৯৫ ইং সনে ‘ডেরা বাবা নানক’ নামক স্থানে গমন করেন এবং বাবা নানকের মুসলমান হওয়ার প্রমাণ পেশ করেন। ‘সৎ বচন’ নামক পুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ করতঃ অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণ করা হয়েছে যে শিখ গুরু ‘বাবা নানক’ মুসলমান ছিলেন।
২. পাঞ্জাবের শিখ রাজপুত্র রাজা দিলীপ শিং সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
জ. বিরুদ্ধবাদী মৌলবী ও অন্যান্যদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলীঃ
১. বাটালা নিবাসী মৌলবী মুহাম্মদ হোসেন সাহেবের জন্য প্রদর্শিত ঐশী নিদর্শন।
২. হুশিয়ারপুর নিবাসী মির্যা আহ্‌মদ বেগ ও তাঁর কন্যা মুহাম্মদী বেগম সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী এবং তদনুযায়ী আহ্‌মদ বেগের মৃত্যু।
৩. ঝিলামের ফৌজদারী আদালতে জনৈক করমদীন কর্তৃক মামলায় হযরত মির্যা সাহেবের বেকসুর খালাস, ঝিলাম গমনের ফলে বিপুল সম্বর্ধনা এবং বহুলোকের বয়আত গ্রহণ। কাদিয়ানের মসজিদে মোবারকে আসার পথে বিরুদ্ধবাদীদের দেওয়াল নির্মাণ এবং ঐশী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলার জন্য আদালত কর্তৃক নির্দেশ প্রদান। মৌলবী রসূল বাবা লিখিত ‘হায়াতে মসীহ্‌’ পুস্তকের বিষয় খণ্ডন করতঃ ‘ইতমামে হুজ্জত’ নামক পুস্তকের প্রণয়ন ও প্রকাশ।
সাদুল্লাহ্‌ লুধিয়ানবীর বিরোধিতাপূর্ণ ব্যবহার এবং উহার ফলশ্রুতি। হযরত সাহেব কর্তৃক ইসলামের শিক্ষা ও সৌন্দর্য, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহা বিজয়, ইসলামের কল্যাণময় আশীষ ধারার চির প্রবহমানতা, ইসলামের পুনরুত্থান ও পুনর্জাগরণ, ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত সর্ব প্রকার অপবাদের খন্ডন এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার্থে বাস্তব-সম্মত পদক্ষেপপূর্ণ পুস্তকাবলী প্রণয়ন ও প্রকাশ।
ঝ. ভারতবাসীদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলীঃ
১. পাঞ্জাবে মহামারী রূপে প্লেগের আক্রমণের ভবিষ্যদ্বাণী, আহ্‌মদীয়া জামাতের সদস্যদের প্লেগের আক্রমণ হতে অব্যাহতি লাভ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
২. লাহোরে অনুষ্ঠিত ‘সর্বধর্ম সম্মেলন’ (১৮৯৭ ইং) এবং উহাতে পঠিত প্রবন্ধের শ্রেষ্ঠত্ব। (‘ইসলামী উসুল কি ফিলসফি’)
ঞ. আফগানিস্তানের জন্য বিশেষ নিদর্শনঃ সাহেবযাদা সৈয়দ আবদুল লতিফ সাহেব এবং মৌলবী আব্দুর রহমান সাহেবের শাহাদাত বরণ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
ট. ইরানের জন্য বিশেষ নিদর্শনঃ কিসরার রাজ প্রাসাদ তথা ইরানের ‘কম্পন অবস্থা’ (বিপ্লব অবস্থা) সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
ঠ. রাশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জন্য বিশেষ নিদর্শনঃ
১. রাশিয়ার তদানীন্তন সম্রাট জার সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
২. রাশিয়ার ভবিষ্যত সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী।
৩. আমেরিকান পাদ্রী আলেকজান্ডার ডুই সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
৪. ইংল্যান্ডের ধর্মযাজক জন হুগ স্মিথ পিগট সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
৫. ইয়াজুজ ও মাজুজ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
৬. প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
৭. ইসলামের প্রতি ইউরোপীয়দের আকৃষ্ট হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী।
ড. বাঙ্গালীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা (১৯১১ ইং)।
ঢ. মধ্য প্রাচ্যবাসীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃ
১. ঈদুল আযহার দিনে আরবী ভাষায় ‘খুতবা ইলহামীয়া’ প্রদান (১৯০০ ইং)।
২. ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে তুরষ্কের কনসলের সংগে সাক্ষাৎকালে তুরস্কের সুলতানের আসন্ন বিপদাবলী সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী।
৩. আরবী ভাষায় জনৈক বাগদাদী মৌলবীর আপত্তির জবাব।
৪. ‘লুজ্জাতুন নূর’ নামক পুস্তকের মাধ্যমে আরব, সিরিয়া, বাগদাদ, ইরাক ও খোরাসানের আলেমদিগকে সুসংবাদ প্রদান।
৫. আরবী ভাষায় ঐশী সাহায্যে ব্যুৎপত্তি লাভ, চল্লিশ হাজার ‘শব্দমূল’ শিক্ষা এবং ২০ খানা আরবী পুস্তক প্রণয়ন।
ণ. চীন ও জাপানের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃ প্রাচ্যে দুইটি রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের ভবিষ্যদ্বাণী এবং উহা জাপান ও চীনের অভ্যূদয়ের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে।
ত. পাকিস্তানের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃ
১. পাকিস্তানে হিজরত সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
২. পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টো এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াঊল হকের প্রচন্ড বিরোধিতা এবং তাদের শোচনীয় পরিণতি সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
থ. বিশ্ববাসীর জন্য বিশেষ নিদর্শন ও জামাতের চূড়ান্ত সাফল্যঃ
১. ১৮৬৪ ইং সনে স্বপ্নে হযরত রসূল করীম (সঃ)-এর দর্শন লাভ এবং প্রত্যাদিষ্ট সংস্কারক হওয়ার পূর্বাভাস। ১৮৬৮ ইং সনে ইলহাম লাভ করেন ‘বাদশা তেরে কাপড়োঁ ছে বরকত ঢুণ্ডেঙ্গে’ অর্থাৎ বাদশা তোমার বস্ত্র হতে আশীর্বাদ অনুসন্ধান করবেন।
২. বিশেষ সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা, উল্কাপাত ও নক্ষত্রের উদয়।
৩. পাঁচটি বিশেষ ঐশী নিদর্শনমূলক ভবিষ্যদ্বাণী। (তাজাল্লিয়াতে ইলাহিয়া)
৪. ‘সুলতানুল কলম’ হিসেবে প্রাপ্ত ঐশী উপাধী।
৫. কবূলিয়াতে দোয়া সম্পর্কিত ঘটনাবলী এবং জামা ও পাগড়ীতে রক্তবর্ণ চিহ্নের ঘটনা।
৬. স্বীয় জীবন, কার্যাবলী ও সাফল্য, মৃত্যু এবং ‘কুদরতে সানিয়া’ হিসাবে খেলাফতের অব্যাহত ধারা, ওসীয়্যত ব্যবস্থা প্রবর্তন।
৭. ‘মুসলেহ মাওউদ’ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
৮. বিরুদ্ধবাদীদের সকল চক্রান্তের অবসান এবং তিন শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বব্যাপী আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলামের মহাবিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7